“তিন দশক ধরে জঙ্গি চাষ….”, অবশেষে ‘দায় স্বীকার’ করলো পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণে গত ২২ এপ্রিল ঘটে যাওয়া নৃশংস সন্ত্রাস হামলায় ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন নিরীহ পর্যটক। আহতও হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এই ঘটনার নেপথ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার সরাসরি অভিযোগ তুলে ভারত সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বৃদ্ধির পাশাপাশি সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। তবে পাক প্রশাসন প্রথম থেকেই এই অভিযোগ মানতে চায়নি। তাদের বিদেশমন্ত্রী ইশক দার ভারতের কাছে হামলার প্রমাণ পেশ করার দাবি জানিয়েছিলেন।

এই উত্তেজনার আবহের মধ্যেই শুক্রবার (২৫ এপ্রিল, ২০২৫) ব্রিটেনের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাওয়াজা আসিফকে যখন সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। নিজেদের দিকে সম্পূর্ণ ‘দোষ’ না টেনে তিনি কার্যত স্বীকার করে নেন যে পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দিয়েছে, তবে এর জন্য তিনি আমেরিকা সহ পশ্চিমি দেশগুলিকেও দায়ী করেন।

সাক্ষাৎকারে খাওয়াজা আসিফ বলেন, “গত তিন দশক ধরে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন-সহ গোটা পশ্চিমের দেশগুলির জন্য এই নোংরা কাজটা করে চলেছি।” এরপরই তিনি তাদের এই কাজকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করে আরও বলেন, “গোটা বিশ্বের প্রতিটি দেশের মধ্যে পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র যারা সন্ত্রাস হামলায় সব থেকে বেশি ভুগেছে। আমরা যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে (আফগান যুদ্ধে) যোগ না দিতাম, তাহলে আজ পাকিস্তান অন্য উচ্চতায় থাকত।” অর্থাৎ, তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করছেন যে তারা পশ্চিমি বিশ্বের স্বার্থে সন্ত্রাসে মদত দিয়েছে এবং এর ফল ভুগতে হয়েছে পাকিস্তানকেই।

একদিকে যখন পহেলগাঁও হামলার পর লস্কর-ই-তৈবার শাখা সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফোর্স’ (TRF) নিজেদের দায় স্বীকার করেছে, তখন সেই একই প্রশ্নে পাকিস্তান প্রশাসনের অবস্থান কিছুটা বিভ্রান্তিকর। বিদেশমন্ত্রী ইশক দার যেখানে ভারতের কাছে প্রমাণ চেয়ে দায় এড়াতে চাইছেন, সেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ দায় সম্পূর্ণভাবে স্বীকার না করলেও একটা সময় পর্যন্ত যে পাকিস্তান দেশের অন্দরে ‘জঙ্গি চাষ’ করেছে বলেই মেনে নেন।

সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি তিনি করেন লস্কর-ই-তৈবার বর্তমান উপস্থিতি প্রসঙ্গে। লস্করের শাখা TRF যখন হামলার দায় স্বীকার করছে, সেই আবহে পাক-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, “বর্তমানে দেশের অন্দরে লস্কর-ই-তৈবা বলে কিছু নেই। ওরা অতীত।” কিন্তু তাঁর এই দাবি লস্করের শাখা সংগঠনের দায় স্বীকারের সম্পূর্ণ বিরোধী। সব মিলিয়ে পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তান নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে আরও বেশি স্ববিরোধিতা এবং বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।