“হিন্দুরা কোনওদিনই এমন কাজ করবে না…”-পহেলগামে ধর্ম বিচারের পর হত্যা, নিন্দা মোহন ভাগবতের

পহেলগামে নিরীহ পর্যটকদের ওপর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলায় ধর্মের ভিত্তিতে বেছে বেছে মানুষ হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই ঘটনাকে ‘ধর্ম এবং অধর্মের মধ্যে যুদ্ধ’ বলে অবিহিত করেন এবং শয়তানি শক্তিকে মোকাবিলা করার জন্য ভারতকে আরও শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানান।
পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে মোহন ভাগবত বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী হামলাকারীরা প্রথমে তাদের নাম জিজ্ঞেস করে এবং তারপর ধর্ম জেনে হত্যা করেছে। এর তীব্র নিন্দা করে আরএসএস প্রধান বলেন, “যে ভাবে ধর্মের জিজ্ঞেস করে মানুষকে মারা হয়েছে, হিন্দুরা কখনও এমন কাজ করবে না।” তিনি এই ঘটনার কড়া জবাব দেওয়ার দাবি জানান।
মোহন ভাগবত বলেন, “এই যুদ্ধ ধর্ম এবং অধর্মের মধ্যে। আমরা প্রত্যেকে এই ঘটনায় ব্যথিত, ক্ষুব্ধ। কিন্তু শয়তানকে ধ্বংস করতে গেলে পূর্ণ শক্তি প্রদর্শন করতে হবে। যেমন রাবণ নিজেকে শোধরাতে অসম্মত ছিলেন। তাই রামের হাতে আর কোনও বিকল্প ছিল না। তবু রাবণ শোধরানোর একটা সুযোগ দিয়ে তার পরই হত্যা করেছিলেন রাম।”
আরএসএস প্রধানের মতে, এই কঠিন সময়ে ভারতবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, “এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা, শয়তানি শক্তিকে আটকাতে হলে আমাদের আরও শক্ত হতে হবে। আমরা দেশবাসীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, তাহলে কেউ আমাদের দিকে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে তাকাতেও সাহস পাবে না। আর কেউ যদি সে সাহস করে তার চোখ যেন উপড়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার জোরালো প্রতিক্রিয়া দরকার।”
মোহন ভাগবত আরও বলেন, ভারতবাসীর স্বভাবে হয়তো শত্রুতা বা ঘৃণা নেই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাঁরা নীরবে ক্ষতি সহ্য করবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনও যুদ্ধ নয়। এটি ন্যায়-অন্যায়য়ের মধ্যে একটি যুদ্ধ। কারণ যারা নিহত হয়েছে তাদের ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। কোনও হিন্দু বা আমাদের সৈন্য কখনও তাদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করে কাউকে হত্যা করেনি। কিছু চরমপন্থী তাদের নিজস্ব ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করেছে এবং এই ধরনের কাজ করেছে।” তিনি বলেন, এই ঘটনায় সবার মধ্যে ক্রোধ এবং শোক থাকা স্বাভাবিক, তবে গোটা জাতিকে এই সময়ে আরও শক্তিশালী হতে হবে। তার এই বক্তব্য পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।