“হাঁড়ি-ভর্তি বিরিয়ানি ফেলেই চম্পট?”-কাশ্মীরের কুলগামে জঙ্গি-ডেরার পর্দাফাঁস

পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার তাংমার্গ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের encounter-এর পর একটি বড় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলেছে। বৃহস্পতিবার এই এনকাউন্টার হয় এবং এরপর চালানো তল্লাশি অভিযানে ওই গোপন ডেরার খোঁজ পান নিরাপত্তারক্ষীরা।
এনকাউন্টারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে জঙ্গিদের ওই আস্তানার ভেতরের চিত্র দেখা যাচ্ছে। যদিও এই সময় অনলাইন সেই ছবি ও ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করেনি, তবে সেগুলিতে যা দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক। দেখা যাচ্ছে, চারিদিকে জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানের পরের দৃশ্য এটি।
উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে বিছানা, স্যুটকেস, জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, বাসনপত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডার। এমনকি আধা খাওয়া চিকেন বিরিয়ানি ভর্তি রান্নার পাত্রও সেখানে পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমস্ত দেখে মনে করা হচ্ছে জঙ্গিরা দীর্ঘদিনের জন্য ওই আস্তানায় ঘাঁটি গেড়েছিল। ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী এই অভিযান চালিয়েছিল।
এই আস্তানাটি আবিষ্কার হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পহেলগামের হামলায় পাকিস্তানের মদদপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তবে কাশ্মীরের কিছু যুবকও যে এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত হচ্ছে, এমন খবরও সামনে আসছে। পহেলগামের হামলায় মূল ভূমিকা পাকিস্তানের জঙ্গিদের থাকলেও, স্থানীয় কেউ কেউ তাদের সাহায্য করেছিল কিনা, সে বিষয়েও সন্দেহ দানা বাঁধছে।
অন্যদিকে, কুলগামের তাংমার্গে যে ধরনের সুসংহত ঘাঁটির সন্ধান মিলেছে, তাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারণা স্থানীয় লোকজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায্য ছাড়া এত গুছানো আস্তানা তৈরি করা সম্ভব নয়। পহেলগামের ভয়াবহ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা বাহিনী এবং বর্তমানে গোটা কাশ্মীর উপত্যকা জুড়েই জঙ্গি বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।