“শালবনীর শিলান্যাস ‘ঢপবাজি’, শিক্ষক নিয়োগেও একই ছবি”-রাজ্যকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার তিনি একদিকে শালবনীর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাসকে কটাক্ষ করেছেন, অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে এসএসসি-র ভূমিকা ও আন্দোলনকারীদের বঞ্চনা নিয়েও সরব হয়েছেন। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, ভোটের আগে স্রেফ ‘ঢপবাজি’ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি শালবনীতে একটি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়টিকে নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “দেউচা পাঁচামিতে হাজার হাজার চাকরির কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু আজ পর্যন্ত সেখানে কিছুই হয়নি। ভোটের আগে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে এটা স্রেফ ঢপবাজি করা হচ্ছে।” তাঁর মতে, শালবনীর এই প্রকল্পও একই রকম অসার প্রতিশ্রুতি।
একইসঙ্গে তিনি শিক্ষক নিয়োগের অনিয়ম এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর দুর্নীতি প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে একাধিকবার আন্দোলনের ঝড় উঠেছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও বহু চাকরিপ্রার্থী বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত, আর সেই বঞ্চনার বিরুদ্ধেই তাঁরা পথে নেমেছেন।
সল্টলেকের ডিরোজিও ভবনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারের থেকে আর কোনও আশাই নেই। তাঁদের বক্তব্য, “ডাক্তাররাও তাঁদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ কিছুই হয়নি। এই সরকার কার্যত কারও কথাই শুনতে চায় না।” তাঁদের মতে, এই সরকারের কাছে কিছু পাওয়ার আশা অর্থহীন, বরং আইনি পথই এখন একমাত্র ভরসা।
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের হতাশার আরও একটি কারণ হলো এসএসসি-র অবস্থান। গত ২১ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ঘোষিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যোগ্য-অযোগ্যদের স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করেনি এসএসসি। এর মধ্যে এসএসসি-র পক্ষ থেকেও নাকি স্পষ্ট বার্তা এসেছে যে তারা যোগ্য-অযোগ্যদের স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করবে না। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী মহল মনে করছে, যোগ্য-অযোগ্যদের স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ না হলে সমস্যার সমাধান অসম্ভব। তারা বলছে, “এসএসসি-র সঙ্গে আলোচনায় বসা মানেই কেবল সময় নষ্ট করা। কারণ কিছুদিন পর এই আন্দোলনও চাপা পড়ে যাবে, যেমন আগেও অনেক আন্দোলন ধামাচাপা পড়েছে।” তাদের মতে, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে শুধু দুর্নীতি আর অব্যবস্থারই চর্চা হয়েছে, যার ফলস্বরূপ শিক্ষা ব্যবস্থা আজ প্রায় ধ্বংসের পথে।
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনের ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিলেও, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ তিনি প্রকৃত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন না। বরং আন্দোলনের ধারাকে তিনি ‘ফ্যাশন’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন, এমনটাই দাবি আন্দোলনকারীদের।
সব মিলিয়ে, একদিকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা এবং চাকরিপ্রার্থীদের গভীর হতাশা—এই পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আস্থার সঙ্কট ক্রমশ বাড়ছে।