নতুন নিয়োগেও দুর্নীতির আশঙ্কা শুভেন্দুর, মুর্শিদাবাদ নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি গেলেও, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আবেদনে ‘দাগি’ নন এমন শিক্ষকদের আপাতত স্কুলে যাওয়ার অনুমতি মিলেছে। তবে শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং এ বিষয়ে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুর তোপ:

বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নতুন করে পরীক্ষা হওয়া মানে তৃণমূল আবার প্রশ্ন বিক্রি করবে। ভাইভার ১০ নম্বর তো রয়েছে তৃণমূলের হাতে। নিজের লোকদের দশের মধ্যে নয়-সাড়ে নয় দেবে আর যাদের বাদ দেবে তাদের এক-দুই করে নম্বর দেবে। এভাবে নির্বাচনের আগে আবার ৫০০ কোটি টাকা তুলবে।’ তিনি আরও বলেন, বিষয়টা জটিল হয়ে গিয়েছে। যোগ্য শিক্ষকরা নিজেদের চাকরি বাঁচাতে চেয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট তাদের নয় মাসের বেতন নিশ্চিত করেছে। কিন্তু সবাইকে ফের পরীক্ষায় বসতে হবে। তৃণমূল এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাবে বলে অভিযোগ করেন বিরোধী দলনেতা।

মুর্শিদাবাদ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য:

মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসাত্মক পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘এটা ধর্মযুদ্ধ। কাশ্মীরের মতো হিন্দুদের ওখান থেকে সরাতে চায়। আমি দুভাবে সমাধান বলতে পারি। এক, এনআইএ দিয়ে পুরো রুটটাই বন্ধ করে দেওয়া, আর দুই, যেখানে হিন্দুরা কম সংখ্যায় রয়েছে সেখানে কাশ্মীরের মতো প্রত্যেককে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক দেওয়া হোক। কারণ প্রত্যেকের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।’

ধুলিয়ান মিউনিসিপ্যালিটির তৃণমূল চেয়ারম্যান ইনজামুলকে গ্রেফতারির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘গতকাল আমি টুইটে সব ফাঁস করে দিয়েছিলাম। এর আগে তৃণমূল বলেছিল, এর নেপথ্যে নাকি বাংলাদেশ আছে।’ এনআইএ তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া পর্যন্ত সেখানে আধাসেনা মোতায়েন রাখারও দাবি জানান তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের আসল ঘটনা রাজ্য সরকার চেপে গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিজেরা খোঁজ নিয়ে প্রকৃত তথ্য জেনেছিল।

সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক দানা বেঁধেছে।