আজকের দিনেই ভারতের মাটিতে প্রথম রেলযাত্রা শুরু হয়েছিল! কেমন ছিল সেই যাত্রা? জেনেনিন

রাজত্ব বিস্তার করতে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ব্রিটেন আয়তনে ছোট হলেও, সুবিশাল ভারতে বাণিজ্য এবং শাসনকার্য পরিচালনার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি অপরিহার্য ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে। শিল্পবিপ্লবের হাত ধরে ব্রিটেনে তখন বাষ্পচালিত ট্রেনের জয়জয়কার। সেই প্রযুক্তিকেই ভারতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানি। শুরু হয় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে রেললাইন পাতার কাজ।
প্রথম দিকে রেল মূলত পণ্য পরিবহন এবং বিশেষ প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত মোতায়েনের জন্য ব্যবহৃত হত। যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর বিষয়ে প্রথম দিকে ইংরেজদের মধ্যে সংশয় ছিল, যাত্রী পাওয়া যাবে কিনা সেই নিয়ে। তবে সেই আশঙ্কা ধীরে ধীরে কাটে এবং ১৮৫৩ সাল নাগাদ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অবশেষে সেই ঐতিহাসিক দিনটি আসে। ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল, শনিবার। বোম্বের (তৎকালীন) নিকটবর্তী বোরি বন্দর (Boribunder) থেকে থানে (Thane) পর্যন্ত পথচলা শুরু করে ভারতের প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন। প্রথম যাত্রায় ট্রেনটি মোট ২১ মাইল বা ৩৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। যাত্রা শুরু হওয়ার আগে ২১টি তোপধ্বনি দেওয়া হয়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বোরি বন্দরে ভিড় করেছিলেন। আজ, সেই ঐতিহাসিক যাত্রার ১৭৩ তম বর্ষপূর্তি।
উপনিবেশে রেলযাত্রার শুরুটা অবশ্য ইংল্যান্ডেই হয়েছিল। ১৮২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর উত্তর পূর্ব ইংল্যান্ডের স্টকটন-ডার্লিংটন রেলওয়েতে বাষ্পচালিত যান ‘লোকোমোশন নং ওয়ান’ প্রথম যাত্রী পরিবহন করে। জর্জ স্টিফেনসনের তৈরি এই ট্রেনটিই বিশ্বের প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন হিসেবে ইতিহাসে পরিচিত। এর পাঁচ বছরের মধ্যেই ইংল্যান্ডে ইন্টারসিটি রেলওয়ে স্থাপিত হয়। দেশের অভ্যন্তরে রেলের এই সাফল্য স্বাভাবিকভাবেই অনুপ্রাণিত করেছিল ইংল্যান্ডের বিভিন্ন উপনিবেশে থাকা ইংরেজদের। সেখান থেকেই রেলের প্রতি আগ্রহ জন্মায় এবং ধীরে ধীরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রায় সকল উপনিবেশেই রেল পরিষেবা চালু হয়। ভারতে যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রা সেই ঔপনিবেশিক রেল প্রসারেরই এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।