“পিঠ চাপড়ে শাবাসি দেওয়ার জন্য বৈঠকে ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী”, মমতাকে খোঁচা দিলেন দিলীপ!

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদঘাটন নিয়ে আজ, বুধবার নবান্নে প্রস্তুতি বৈঠকের পাশাপাশি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের সঙ্গে বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই বৈঠক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
আজ সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে দিলীপ ঘোষ ইমাম-মোয়াজ্জেমদের বৈঠক নিয়ে বলেন, “পিঠ চাপড়ে শাবাসি দেওয়ার জন্য তাঁদের বৈঠকে ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা কিছু হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছায় এবং উৎসাহে হচ্ছে। উনি ইদের দিন বার্তা দিয়েছিলেন, ‘যা খুশি করো, আমি দেখে নেব’। মালদা জেলার পল্লালপুরে স্কুলে এতগুলি লোক আশ্রয় নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও লোক তাদের কথা শুনতে গিয়েছেন? একই রাজ্যের একটি জায়গা থেকে লোক পালিয়ে আরেকটি জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদের ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য ডেকেছেন।”
ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলছে বিক্ষোভ। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের একাংশে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ইমাম-মোয়াজ্জেমদের সঙ্গে বৈঠকে বসায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “শরবত খাওয়ানো হবে। উনি বলবেন ঠিক আছে, চালিয়ে যাও। ওরা আগেই ঘোষণা করেছে ৪০ দিন ধরে চালিয়ে যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যদি এটাই ইচ্ছা হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের ভাবতে হবে তারা কীভাবে বাঁচবে?”
নেতাজি ইন্ডোরে আসা ইমামদের বক্তব্য, তাঁরা শান্তির জন্য জমায়েত করেছেন এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবেন। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা বারবার বলছি, বাংলাদেশে যা ঘটেছে এখানে তার ট্রেলার চলছে। একই ধরনের ঘটনা। হিন্দু বসতি এলাকা ঘিরে নিয়ে অত্যাচার চলেছে। অবিকল বাংলাদেশ মডেল। এটা এক্সটেন্ডেড বাংলাদেশ হয়ে গিয়েছে। উনি তো জগন্নাথ মন্দির তৈরি করেছেন। ওটা লিজ দিয়ে দিন। কিছু টাকাপয়সা ঘরে আসবে। সবই ওনার রাজনীতির হিসেব। ওটা হয়তো এরপর মমতা মন্দির নাম হবে। মুখ্যমন্ত্রী চোখ দেখে মাওবাদী চিনতে পারেন, পার্টির মধ্যে কে খাচ্ছে ঘুমাচ্ছে জানতে পারেন। আর রাজ্যে এতবড় ঘটনার খবর নেই? সব খবর আছে। সব উনি করাচ্ছেন।”
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।