মুর্শিদাবাদে অশান্তির নেপথ্যে বহিরাগত যোগ, বাংলাদেশ থেকেও মদদ?-রিপোর্ট গোয়েন্দাদের

মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক অশান্তির পিছনে বহিরাগতদের হাত থাকার জোরালো সূত্র পেয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাইরের লোকজন পরিকল্পনামাফিক এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ লাগোয়া বাংলাদেশ থেকেও এই গোলমালে মদদ দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কারা এর মূল চক্রী, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ওই এলাকায় অশান্তির ঘটনা নতুন নয়। ২০১৯ সালে সিএএ বিলের প্রতিবাদেও বেশ কয়েকদিন ধরে মুর্শিদাবাদ উত্তপ্ত ছিল। সে সময় একের পর এক ট্রেন, বাস জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং স্টেশনে ভাঙচুর চলে। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, টানা কয়েকদিন ধরে তাণ্ডব চালানোর জন্য ওই এলাকা এবং বাইরের কিশোরদের ব্যবহার করা হয়েছিল, যাদের অনেকেই সিএএ আসলে কী, তা ভালোভাবে জানত না।

তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্ক ভালো থাকা সত্ত্বেও এ রাজ্যের সীমান্ত নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতায় এসে অজিত দোভালও মুর্শিদাবাদ নিয়ে গোয়েন্দাদের সতর্ক করে গিয়েছিলেন। সেই আলোচনায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ভূমিকাও উঠে এসেছিল। সব মিলিয়ে সীমান্ত জেলাগুলি যে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, সে বিষয়েও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকেও মুর্শিদাবাদের ঘটনার নেপথ্যে বহিরাগতদের ভূমিকা থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে বিএসএফকে। সোমবার মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও অরূপ বিশ্বাসরা দাবি করেছিলেন, বহিরাগতরা ঢুকে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। তৃণমূলের মুখপাত্ররা সরাসরি বিএসএফের একাংশের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ঢিলেঢালা নজরদারি এড়িয়ে বাইরের থেকে লোক ঢুকে এলাকা অশান্ত করেছে।’

গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, আক্রান্তরা জানিয়েছেন, যারা হামলা চালিয়েছে তারা নিজেদের মুখ-চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে এসেছিল। ফলে কম বয়সি সেই যুবকদের শনাক্ত করা যায়নি। তবে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সাহায্য ছাড়া এই ধরনের তাণ্ডব চালানো সম্ভব নয় বলেও গোয়েন্দাদের ধারণা।

এই অশান্তির সম্ভাব্য কারণ কী?

গোয়েন্দারা মনে করছেন, এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, কয়েক মাস আগে মুর্শিদাবাদ থেকে আনসারুল্লা বাংলা টিমের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ওই জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিল তারা। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর থেকে ওই সীমান্তে গরু ও মাদক পাচার অনেকটা কমে যাওয়ায় পাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত চক্রের সদস্যরা গোলমাল পাকানোর জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করেছিল, যাতে বিএসএফের উপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করা যায়।

মঙ্গলবার এক গোয়েন্দা কর্তা জানান, ‘কয়েক মাস আগে মুর্শিদাবাদ সীমান্ত লাগোয়া কয়েকটি গ্রামে ‘ইসলামিক স্টেট অফ বেঙ্গল’ নামে একটি সংগঠনের লিফলেট পাওয়া গিয়েছিল। কারা সেগুলো ছড়িয়েছে তা এখনও স্পষ্ট না হলেও, নাশকতা ঘটানোর জন্য মুর্শিদাবাদে যে বেশ কিছুদিন ধরে প্রস্তুতি চলছিল, তা স্পষ্ট।’

তবে, রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে কারা ধুলিয়ান বা ওই এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম বলেন, ‘যারা বা যে সংগঠন এই কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’