ওয়াকফ আইন নিয়ে অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদ, মমতার অতীতের সিবিআই নির্দেশেও ধোঁয়াশা

ওয়াকফ আইন নিয়ে মুর্শিদাবাদের সুতি ও সামশেরগঞ্জে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই আইনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘোষণা করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এই আইন কার্যকর হতে দেবেন না।

ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও এই ইস্যুতে রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়েছে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম জমানার ওয়াকফ কেলেঙ্কারির সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি এই ঘোষণা করেন।

সেদিন বিধানসভায় সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বাজেট আলোচনার সময় কোটি কোটি টাকার ওয়াকফ বোর্ড কেলেঙ্কারির সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি এই বিভাগ নিজের হাতে রেখেছি একটাই কারণে—এটাকে আমি অবহেলিত হতে দেব না।”

কংগ্রেস বিধায়ক আবু তাহের খান এবং সিপিআইএম বিধায়ক আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা ওয়াকফ কেলেঙ্কারির বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

ওয়াকফ কেলেঙ্কারির ইতিহাস:

ওয়াকফ বোর্ড কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ১৯৯৬ সালে, যখন কলিন স্ট্রিটের একটি ওয়াকফ সম্পত্তিতে অনিয়ম ধরা পড়ে। তৎকালীন বিচারবিভাগীয় সচিব পি কে সেনগুপ্ত এই বিষয়ে তদন্ত করেন। জ্যোতি বসু সরকার বিচারপতি গীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি এক সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করে। ২০০১ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই কমিশন তার ১,৪০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে, এই তদন্তের ফলাফল নিয়ে তখন থেকেই বিতর্ক চলছে।

ওয়াকফ সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার এবং তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, “এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যদি কোনও অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা বেরিয়ে আসবে। আমি কাউকে ছাড় দেব না।”

প্রশ্ন উঠছে, মুর্শিদাবাদের বর্তমান হিংসার পিছনেও কি সেই পুরনো কেলেঙ্কারি জড়িয়ে আছে? কারণ, মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ সম্পত্তির একটি বড় অংশ স্থানীয় নেতাদের দখলে। তদন্তকারীদের মতে, সেই সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার ভয়েই তারা হিংসায় উসকানি দিচ্ছে।

বাম জমানার ওয়াকফ কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৪ বছর আগের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ অনুযায়ী কি কাজ হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। ওয়াকফ আইন নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে, এই অতীতের তদন্তের প্রসঙ্গ আবারও সামনে আসছে।