কাঞ্চনের ডাকে প্রশিক্ষণ শিবির, গরহাজির বহু তৃণমূল নেতা, উত্তরপাড়ায় কি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব?

উত্তরপাড়ার বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক কর্তৃক আয়োজিত ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শিবিরে অনুপস্থিত থাকলেন এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলর। রবিবার ফণীন্দ্র ভবনে অনুষ্ঠিত এই শিবিরে দেখা মেলেনি জেলা সভাপতি অরিন্দম গুঁইন, জেলা যুব সভাপতি শুভদীপ মুখোপাধ্যায়, কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস, উত্তরপাড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান খোকন দাস এবং রঘুনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কেষ্ট মণ্ডল-সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে।

এই অনুপস্থিত নেতারা জেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞ এবং সংগঠনে তাদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। স্বভাবতই তাদের এই গরহাজিরা কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলের অন্দরে কি ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে গোষ্ঠী কোন্দল? যদিও বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কোনো দলাদলির প্রশ্নই নেই। যারা আসতে পারেননি, তাদের ব্যক্তিগত কাজ ছিল। তবে অনুপস্থিত নেতাদের একাংশের অভিযোগ, সভার ১৫-২০ মিনিট আগে ফোন করে তাদের আসার কথা বলা হয়েছে, যা স্বল্প সময়ের কারণে অনেকের পক্ষেই সম্ভব ছিল না।

আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বুথস্তরের এজেন্টদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যজুড়েই এই কর্মসূচি চলছে। উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রেও রবিবার একই উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ শিবির ছিল। কিন্তু দলের একটি বড় অংশের নেতাদের অনুপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে।

এদিন প্রশিক্ষণ শিবিরের সামনে এসেও ফিরে যান উত্তরপাড়ার উপ পুরপ্রধান খোকন মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘কেন এত জন এলেন না, সেটা ভাবার বিষয়। ভোটার তালিকা সংশোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং সকল নেতা-কর্মীর মিলিতভাবে এটি করা উচিত। সব সময় বিধায়ককে পাওয়া যায় না, এমনকি ফোনেও নয়। তাই স্থানীয় সকলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কাজ হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।’

কোন্ননগর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শুভাশিস চৌধুরী জানান, ‘একেবারে শেষ মুহূর্তে বিধায়ক ফোন করেছিলেন। আমি বললাম, কী নিয়ে মিটিং সেটাই জানি না। ১১টায় মিটিং, অথচ ফোন এল সাড়ে ১০টা পৌনে ১১টা নাগাদ। আজ আমাদের নীল ষষ্ঠীর পুজো, গঙ্গার ঘাটে প্রচুর ভিড়। আমরা তা নিয়ে ব্যস্ত। অন্য কাউন্সিলররাও ব্যস্ত। আর ভোটার লিস্ট সংশোধন শুনছি দলের কাউন্সিলরদের বাদ দিয়েই হবে। এখানে দল যা ঠিক করবে, তাই হবে। যদি কখনও মনে হয় আমাদের কাজে লাগবে, আমরা সব সময়েই আছি।’

অনুপস্থিত নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি তারা ভালোভাবে নেননি। তবে কাঞ্চন মল্লিককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমি কিছু বলব না। সকলকেই জানানো হয়েছে। নিশ্চয়ই না আসার কোনো কারণ থাকতে পারে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, উনি ব্যক্তিগত কাজে ছিলেন। জেলা সভাপতির সঙ্গেও কথা হয়েছে। আর আমন্ত্রণপত্র ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপেও জানানো হয়েছে।’ দলের অন্দরে মতবিরোধের জল্পনা প্রসঙ্গে কাঞ্চন মল্লিক থমকে যান, এরপর দৃঢ়ভাবে বলেন, কোনো মতবিরোধের অবকাশ নেই।