ধুলিয়ানে গুলিবিদ্ধ যুবক, মুর্শিদাবাদে গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে ১৮০, টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী

সংশোধিত ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যেই ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের সুতি ও সামশেরগঞ্জ এলাকায়। প্রাণহানির ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে জেলার বিস্তীর্ণ অংশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই অশান্তির ঘটনায় মোট ১৮০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে সংঘর্ষে আরও এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সামশের নাদাব নামে ওই যুবক বর্তমানে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রবিবার সকালেও সুতি, সামশেরগঞ্জ-সহ বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এদিন রুট মার্চ করেছে। রাজ্যের একাধিক দক্ষ পুলিশ আধিকারিককে ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে ধুলিয়ান পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন নাদাব। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। অন্তত পরিবারের সদস্যরা তেমনটাই দাবি করেছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, গুলিটি তাঁর কোমরের নীচে লেগেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায় নতুন করে কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। তবে গোটা এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে। শনিবার রাতে রাজ্য পুলিশের এডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। রাতে ধুলিয়ানে দু’টি গোষ্ঠীর লোকজনকে নিয়ে শান্তি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার রাতেই রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জঙ্গিপুরে এসে পৌঁছন। মুর্শিদাবাদে পৌঁছে তিনি বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখেন এবং পরে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন।
সামশেরগঞ্জ এবং সুতি মিলিয়ে মোট ন’টি স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশও রয়েছে। রবিবার সকাল ৯টা থেকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে রুট মার্চ করেছে। জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।
জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুল আহমেদ দাবি করেছেন, অশান্তি পাকানোর জন্য বাইরে থেকে লোক আনা হয়েছিল। তিনি সকলকে শান্তি বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা কয়েকজন বিধায়ক এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিতে একটি রুট মার্চ করেছি। পুলিশ এখানে সক্রিয় রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী সহযোগিতা করছে। আমরা আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে, আমরা সবাই একসঙ্গে থাকব।’
ধুলিয়ান এলাকা থেকে বহু মানুষ আতঙ্কে মালদা জেলার বৈষ্ণবনগরে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে রবিবার ভোর থেকেই ভাগীরথী নদী পার করে চলে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সকাল থেকে নতুন করে কোনও অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি।