BJP-সাংসদের পুত্রবধূর গাড়ির ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু! দেহ নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ পরিবারের

জীবন কখন কার কাছ থেকে কেড়ে নেবে, তা বলা কঠিন। সকালে কলেজে যাওয়া এক তরতাজা যুবক যে সন্ধ্যায় আর ঘরে ফিরবে না, তা স্বপ্নেও ভাবেননি কেউ। মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় এমনই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি সাংসদ ডঃ রাজেশ মিশ্রার পুত্রবধূ ডঃ বীনা মিশ্রার গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন কলেজছাত্র অনিল দ্বিবেদী। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অনিলের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২ এপ্রিল। কলেজ যাওয়ার পথে স্কুটিতে থাকা অনিল দ্বিবেদী এবং তাঁর এক বন্ধু সিধি শহরে একটি দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় গুরুতরভাবে জখম হন। অভিযোগ উঠেছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন খোদ সাংসদের পুত্রবধূ ডঃ বীনা মিশ্রা। গাড়িটির নম্বর MP 17 JE 5613, যা সাংসদের ছেলে ডঃ অনুপ মিশ্রার নামে রেজিস্টার্ড।

গুরুতর আহত অনিলকে প্রথমে রেওয়া’র সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জবলপুর ও নাগপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ চেষ্টার পরেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে রেওয়া হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর অবশেষে অনিল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় গাড়িচালক তথা ড্রাইভারের নামে একটি এফআইআর দায়ের করে। তবে অনিলের পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, গাড়ি চালাচ্ছিলেন সাংসদের পুত্রবধূ ডঃ বীনা মিশ্রাই, কোনও ড্রাইভার নন। তাঁদের দাবি, এফআইআর-টি ডঃ বীনা মিশ্রার নামেই নথিভুক্ত করতে হবে। এই দাবিতে অনিলের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রিয়জনের মৃতদেহ নিয়ে সাংসদের বাড়ির সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।

অনিলের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিল। সে প্রতিদিনের মতো কলেজে যাচ্ছিল। প্রভাবশালী পরিবারের গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে গেল, আর এখন তারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা যতক্ষণ না ন্যায়বিচার পাই, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এখান থেকে লাশ সরাবো না।”

অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে ডিএসপি গায়ত্রী তিওয়ারি জানিয়েছেন, “ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। আমরা ইতিমধ্যেই পরিবারের সদস্যদের বয়ান নিয়েছি। আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

অনিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ পরিবার ও স্থানীয়রা স্লোগান দিতে দিতে সাংসদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একজন তরতাজা যুবকের অকালমৃত্যুই নয়, এটি ক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সিধির রাস্তায় নেমে আসা মানুষেরা যেন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন, ক্ষমতাবানদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হতে জানে। এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় প্রশাসন আদৌ নিরপেক্ষ তদন্ত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে কি না, নাকি আবারও প্রভাবশালী মহলের চাপে চাপা পড়ে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা।