“ধর্মনিরপেক্ষতার ট্যাবলেট খাইয়ে…”, অভিষেকের মন্তব্যে কড়া জবাব সুকান্তর, দেখুন ভিডিও

ওয়াকফ সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলা। এই পরিস্থিতিতে গতকাল প্রথমবারের মতো মুখ খুলে শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ‘কেউ কেউ চাইছে বাংলা জ্বলুক।’
অভিষেকের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। আজ বার্তাসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে গত ৭৫ বছর ধরে হিন্দুরা এই সংলাপ শুনে আসছে… ধর্মনিরপেক্ষতার ট্যাবলেট খাইয়ে সমগ্র হিন্দু সমাজকে প্রান্তিক করে দেওয়া হয়েছে।’
সুকান্ত মজুমদার সরাসরি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ‘হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাস, উভয় পিতা-পুত্র মারা গেছেন। কী হচ্ছে, সরকার আছে কি নেই? এই সরকার নিজেকে সম্পূর্ণরূপে জিহাদিদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। অভিষেক ব্যানার্জি, যিনি পশ্চিমবঙ্গ বা মুর্শিদাবাদ সম্পর্কে জানেন না, তিনি লাফালাফি করে বড় বড় কথা বলছেন… সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী মন্ত্রী থাকাকালীন হিন্দুদের বিরুদ্ধে যে ধরণের উস্কানিমূলক কথা বলেছেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত।’
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল থেকে মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নেয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন কিশোরও রয়েছে। গত ১১ এপ্রিল সামশেরগঞ্জে বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশকে বারবার ফোন করা হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়নি। বর্তমানে এলাকায় বিএসএফ টহল দিচ্ছে।
#WATCH | Kolkata: On TMC MP Abhishek Banerjee’s statement, West Bengal BJP president and Union Minister Sukanta Majumdar says, “Hindus have been hearing this dialogue for the last 75 years since Independence…By feeding the tablets of secularism, the entire Hindu society has… https://t.co/XsguTwfs88 pic.twitter.com/uUvaXaYSVP
— ANI (@ANI) April 13, 2025
এর আগে গতকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘উন্নয়নের ইস্যুতে রাজনৈতিকভাবে আমাদের সাথে লড়াই করতে ব্যর্থ হওয়ার পরে অনেকেই ধর্মের নামে বিভেদের বীজ বপন করতে চাইছে। এভাবে বাংলায় অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি আজ সকলের কাছে শান্তি বজায় বজায় রাখার আবেদন করছি। এবং বাংলার সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার আবেদন জানাচ্ছি। আমাদের সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। কেউ কেই চাইছে বাংলা জ্বলুক।’
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পুরসভা, একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি শপিংমলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের দাদার বাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে, এমনকি বিধায়ককেও হেনস্থা করা হয় বলে জানা যায়। জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমানের অফিসেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে টহল দিচ্ছে।