“রাশিয়ার হাতে যাবে ইউক্রেনের ৪ অঞ্চল”-যুদ্ধবিরতি নিয়ে শান্তি চুক্তিতে ট্রাম্পের চমক

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘ তিন বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে যখন আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন ফর্মুলা নিয়ে সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত মেটাতে একটি চমকপ্রদ শান্তি প্রস্তাব তৈরি করেছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত ইউক্রেনের কিছু অংশ রাশিয়াকে হস্তান্তরের পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন। তিনি চারটি পূর্ব ইউক্রেনীয় অঞ্চল রাশিয়াকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, যা যুদ্ধবিরতির একটি দ্রুততম উপায় হিসেবে মনে করছেন তিনি। তবে, এই ‘চুক্তি’ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরেই কৌশলগত মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে, যখন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে একজন দূত পাঠান। রুশ আলোচক ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নৈশভোজে অংশ নেন এবং ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই বৈঠকের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসে। মস্কোর সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন এবং ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

‘পূর্ব ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করুন’

স্টিভ উইটকফ মনে করেন, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল চারটি পূর্ব ইউক্রেনীয় অঞ্চলের মালিকানা রাশিয়াকে দিয়ে দেওয়া। দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং এই ঘটনাক্রমের সঙ্গে অবগত পাঁচ ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উইটকফ এই প্রস্তাবটিকে যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে দ্রুততম পথ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারেও তিনি একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি, বেশ কিছু আমেরিকান ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাও এই প্রস্তাবকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ‘অতিরিক্ত দাবি’ হিসেবে দেখছেন।

উইটকফের প্রস্তাবের বিরোধিতা

সূত্রের খবর অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইউক্রেন বিষয়ক বিশেষ দূত জেনারেল কিথ কেলিগ এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ইউক্রেন বিতর্কিত ভূমি সম্পর্কিত কিছু শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকতে পারে, কিন্তু তারা কখনই একতরফাভাবে রাশিয়ার কাছে এই অঞ্চলগুলির সম্পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তর করতে রাজি হবে না। কেলিগের এই অবস্থান ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী নীতির প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, উইটকফ শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করার জন্য রাশিয়া যান। সেন্ট পিটার্সবার্গে তাঁদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে চলমান অচলাবস্থার অবসান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য ক্রমশ বাড়ছে। কৌশল নির্ধারণ নিয়ে উইটকফ এবং কেলিগের মধ্যে গভীর বিভেদ দেখা দিয়েছে। পশ্চিমা কূটনীতিকরাও এই অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যগুলি স্বীকার করেছেন। উদ্বেগ প্রকাশ করে অনেকেই উইটকফকে স্পষ্টভাবে ‘রাশিয়াপন্থী’ হিসেবে দেখছেন বলে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমেরিকার বিদেশনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তিনি ইউক্রেনে দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য জোর দিতে শুরু করেছেন এবং বাইডেন প্রশাসন কর্তৃক রাশিয়ার উপর আরোপিত অনেক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন। কিছু মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, উইটকফ যখন ট্রাম্পের এই কৌশল বাস্তবায়ন করছেন, তখন রাশিয়া তার অভিজ্ঞতার অভাবের সুযোগ নিতে পারে। ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন শান্তি প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে।