“জায়গায় জায়গায় মিলছে বাধা”-স্মার্ট মিটার বসানোই এখন চ্যালেঞ্জ বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার

কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (ডব্লিউবিএসইডিসিএল) ইতিমধ্যেই রাজ্যের কিছু জেলায় প্রায় দু’লক্ষ স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন করেছে। এবার পূর্ব বর্ধমানেও এই আধুনিক মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর বর্ধমান শাখা অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে, এই স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ যে সহজ হবে না, তার আঁচ বৃহস্পতিবারই পাওয়া গেল। এদিন শহরের ইন্দ্রকানন এলাকায় স্মার্ট মিটার লাগাতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র আপত্তি জানান। ইন্দ্রকানন উন্নয়ন সমিতির সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেও স্মার্ট মিটারের সুবিধা বোঝাতে বেগ পেতে হয় বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের।
সমিতির সভাপতি দেবাশিস ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর নিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থার কিছু কর্মী আজ আমাদের এলাকায় স্মার্ট মিটার লাগাতে এসেছিলেন। কিন্তু এই মিটার সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। তাই আমরা তাঁদের মিটার লাগাতে দিইনি। আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি, স্মার্ট মিটারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার পরেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। তাঁরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসে আমাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন বলে জানিয়েছেন।’
ইতিমধ্যে ডব্লিউবিএসইডিসিএল স্মার্ট মিটার ব্যবহারের সুবিধাগুলি নিয়ে প্রচার শুরু করেছে। তবে, গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের বুঝিয়ে এই আধুনিক মিটার বসানোই এখন বিদ্যুৎ দফতরের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর পূর্ব বর্ধমানের রিজিওনাল ম্যানেজার গৌতম দত্ত জানান, ‘কেন্দ্রের নির্দেশিকায় প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার বসানো গ্রাহকদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিলে তিন শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য গ্রাহকদের কোনও অর্থ খরচ করতে হবে না।’
রিজিওনাল ম্যানেজার আরও বলেন, এই মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকরা তাঁদের বিদ্যুৎ বিলের সঠিক হিসাব জানতে পারবেন। এমনকি, একদিনে একজন গ্রাহক কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেন, তাও নিজেদের মোবাইল ফোন থেকেই দেখতে পারবেন। ফলে মিটার রিডিং নিয়ে কোনও রকম ত্রুটি থাকার সম্ভাবনাও দূর হবে।
বিদ্যুৎ দফতর মনে করছে, প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে যে কোনও নতুন পদ্ধতি নিয়ে গ্রাহকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই কিছু সংশয় কাজ করে। স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটছে। এই বিষয়ে রিজিওনাল ম্যানেজার গৌতম দত্ত আরও বলেন, ‘মিটার পরিবর্তন করা হলেও কোনও গ্রাহকের বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনে কোনও পরিবর্তন আসবে না। আগের মিটারে যা রিডিং উঠত, এই মিটারেও তাই উঠবে। স্মার্ট মিটারগুলি বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঠিক হিসাব রাখে। এমনকি গ্রাহকরা নিজেরাও বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, যার ফলে তাঁরাই লাভবান হবেন।’
বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, স্মার্ট মিটারগুলি প্রাথমিকভাবে পোস্টপেইড মোডেই থাকবে। মিটার পরিবর্তনের ফলে গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকরা প্রতি মাসের বিল প্রতি মাসেই পরিশোধ করতে পারবেন এবং নিজেদের বিল নিজেরাই দেখতে পারবেন। প্রয়োজনে তাঁরা অগ্রিম বিলও জমা দিতে পারবেন। এখন দেখার বিষয়, বিদ্যুৎ দফতর কিভাবে গ্রাহকদের এই নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে এবং মিটার বসানোর কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করে।