অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, হাইস্কুলের চাকরি ছেড়ে প্রাথমিকের পথে পা বাড়ালেন বহু শিক্ষক

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানোর পর বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে শীর্ষ আদালতের একটি নির্দেশ তাঁদের মনে সামান্য আশার সঞ্চার করেছে। আদালত জানিয়েছিল, প্রাথমিকের শিক্ষকতা থেকে পদত্যাগ করে যাঁরা পরবর্তীকালে হাইস্কুলে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরা চাইলে তাঁদের পুরোনো প্রাথমিক স্কুলের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এই নির্দেশের পরেই হাওড়া জেলার বহু চাকরিহারা শিক্ষক ইতিমধ্যেই তাঁদের পুরোনো কর্মস্থল অর্থাৎ জেলা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা দপ্তরে পুনরায় যোগদানের জন্য আবেদন জমা দিতে শুরু করেছেন। বর্তমানের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে, হাইস্কুলের চাকরি হারানোর পর অনেকেই তাঁদের আগের তুলনামূলক স্থিতিশীল প্রাথমিক শিক্ষকের পদটি ফিরে পেতে আগ্রহী।

হাওড়া প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, এই জেলার মোট ৫৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা পূর্বে প্রাথমিকের শিক্ষকতার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে হাইস্কুলে যোগদান করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁদের পুরোনো পদে পুনর্বহালের জন্য আবেদন জানিয়েছেন এবং প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা দপ্তর সেই আবেদন গ্রহণও করেছে।

প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা সংসদের হাওড়া জেলার চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ এই বিষয়ে জানান, যেহেতু আদালত তিন মাসের মধ্যে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে, তাই যে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা আগে প্রাথমিকের চাকরি ছেড়েছিলেন, তাঁরা এখন থেকেই আবেদন করতে শুরু করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর তাঁদের আবেদনপত্র গ্রহণ করছে।

চেয়ারম্যান আরও জানান, এই বিষয়ে রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাঠায়নি। তবে প্রাথমিকের চাকরিতে ফিরে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষকদের বক্তব্য, যেভাবে তাঁদের হাইস্কুলের চাকরি বাতিল হয়েছে এবং বর্তমানে যে অনিশ্চয়তার মেঘ তাঁদের ভবিষ্যৎ আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তার তুলনায় প্রাথমিকের চাকরি অনেক বেশি নিশ্চিত ছিল। তাই, বেতন তুলনামূলকভাবে কম হলেও, তাঁরা সেই পুরোনো চাকরি ফিরে পেতে চান।

হাওড়ার বাউড়িয়ার এক শিক্ষক ২০১০ সালে বাগনানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেই চাকরি থেকে পদত্যাগ করে মুর্শিদাবাদের একটি হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এমনকি, করোনার সময় মিউচুয়াল ট্রান্সফারের সুবিধা নিয়ে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি হাইস্কুলে বদলিও হয়েছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োলজিতে এমএসসি ডিগ্রিধারী এই শিক্ষকও এখন প্রাথমিকের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে, ডোমজুড়ের এক অঙ্কের শিক্ষক, যিনি এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর প্রাথমিকের চাকরি ছেড়ে হাইস্কুলে যোগদান করেছিলেন, তিনিও বর্তমানে প্রাথমিকের শিক্ষক হিসেবেই কর্মজীবনে ফিরতে চান। এই ঘটনায় স্পষ্ট, চাকরি হারানোর গভীর অনিশ্চয়তা বহু শিক্ষককে তাঁদের আগের, তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল কর্মজীবনের দিকে ফিরে যেতে উৎসাহিত করছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার এই শিক্ষকদের আবেদনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।