বিধানসভার বিল আটকে রাখা নিয়ে ফের সরব ‘শোভনদেব,! সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ

রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল রাজ্যপালেরা অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারেন না, সুপ্রিম কোর্টের এই সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের পর ফের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নবান্নের তরফে বিলগুলির অনুমোদন নিয়ে জানতে চাওয়া হলে রাজ্যপাল জানান, বেশ কিছু বিলে সম্মতির আগে তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান এবং সেই মর্মে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছেন। এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বর্ষীয়ান মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

বুধবার রাজভবনের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গণমাধ্যমের একাংশে কিছু বিল অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে থাকার বিষয়ে ভুল খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজ্যপাল সংবিধান মেনে চলছেন এবং বিল পাশের বিষয়ে যথাযথ শিষ্টাচার বজায় রেখেছেন। রাজভবনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাজ্যপালকে জানানো ২২টি বিলের মধ্যে তিনি পাঁচটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে দুটি বিল রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন।

টোটোপাড়ার সমস্যার কথা শুনলেন রাজ্যপাল! শোনালেন পদ্মশ্রী ধনীরাম টোটো
‘এই কাজ একজনের পক্ষে সম্ভব কিনা জানি না’! RG Kar নিয়ে সব দলকে একসঙ্গে চান শোভন
আরও পড়ুন: পরের সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে SSC, নেওয়া হচ্ছে আইনি পরামর্শও! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে আস্থা রাখার পরামর্শ ব্রাত্যর

তবে, রাজ্যপালের এই যুক্তির সরাসরি বিরোধিতা করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের ডেকে পাঠানো বা তাঁদের সঙ্গে আলোচনার অধিকার সংবিধান রাজ্যপালকে দেয়নি। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানে কোথাও অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও বিল আটকে রাখার ক্ষমতা রাজ্যপালকে দেওয়া হয়নি। মন্ত্রীর বক্তব্য, “বিল সংক্রান্ত আইনি জটিলতা থাকলে রাজ্যপাল সরকারকে চিঠি লিখে জানাতে পারেন। তিনি ডেকে পাঠাবেন, আলোচনা করবেন এমন কথা সংবিধানে লেখা নেই। আমি বহুবার সংবিধান পড়েছি। রাজ্যপাল বিল পাশ করতে বাধ্য থাকবেন। একান্ত অসুবিধা হলে তিনি রাষ্ট্রপতিকে পাঠাতে পারেন।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ্যপাল ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিল রাজ্যপালের দফতরে আটকে রয়েছে। তিনি রাজ্যপালের পদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বর্ষীয়ান এই মন্ত্রীর মন্তব্য, “বিভিন্ন বিধানসভায় একাধিকবার এই রাজ্যপাল পদটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্ট সঠিক রায় দিয়েছে এবং সমস্ত রাজ্যপালের উচিত তা মেনে চলা। তবে এই রাজ্যপালের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।”

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিধানসভায় পাশ হওয়া ২৩টি বিল এখনও রাজ্যপালের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে অপরাজিতা বিল এবং গণপিটুনি বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলও রয়েছে।

অন্যদিকে, রাজভবনের দাবি, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে রাজ্যপাল মোট ১১টি বিল রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠিয়েছেন। এই বিলগুলির মধ্যে দশটি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত এবং একটি হল ‘অপরাজিতা বিল’, যা রাজ্য সরকারের সুপারিশ মেনেই রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।