AI-প্রশিক্ষণে অনুমতি ছাড়াই বই ব্যবহার, মেটার বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটছেন জেরি অ্যাডামস

আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক দল শিন ফেইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেরি অ্যাডামস’সহ বেশ কয়েকজন লেখকের বই প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা তাদের সর্বশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেরি অ্যাডামস এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তার বইয়ের তথ্য “তার অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করেছে কোম্পানিটি” এবং বিষয়টি এখন তার আইনজীবী দেখছেন।

আটলান্টিক ম্যাগাজিনের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মেটার জেনারেটিভ এআই সিস্টেম ‘লামা’কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ‘লিবজেন’ নামের লাইব্রেরি জেনেসিসের মাধ্যমে লাখ লাখ পাইরেটেড বই ও বিভিন্ন গবেষণাপত্রে প্রবেশাধিকার পেয়েছে মেটা। লিবজেন মূলত একটি বিতর্কিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কপিরাইটযুক্ত বই বিনামূল্যে ডাউনলোডের জন্য উপলব্ধ থাকে।

এই অভিযোগের বিষয়ে মেটার একজন মুখপাত্র একটি বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা তৃতীয় পক্ষের মেধাস্বত্ব অধিকারকে সম্মান করি এবং বিশ্বাস করি এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে আমাদের তথ্যের ব্যবহার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” তবে, এই বক্তব্যে লেখকদের উদ্বেগ প্রশমিত হয়নি।

সম্প্রতি লন্ডনে ‘সোসাইটি অফ এডিটর্স’ একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন এআই সিস্টেম বিকাশের স্বার্থে মেটার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা লাখ লাখ কপিরাইটযুক্ত বই ব্যবহার করছে।

জেরি অ্যাডামস বেশ কয়েকটি বইয়ের তালিকা উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন যে, এই বইগুলো মেটার এআই মডেলকে প্রশিক্ষিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের পক্ষ থেকে মেটার কাছে অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

লেখকদের অনুমতি ব্যতিরেকে তাদের কাজ এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের এই অভিযোগ মেধাস্বত্ব এবং এআই প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। জেরি অ্যাডামসের আইনি পদক্ষেপ এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে এআই কোম্পানিগুলো কীভাবে প্রশিক্ষণ ডেটা সংগ্রহ করে, সে বিষয়েও নতুন নীতি নির্ধারণের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।