OMG! ব্রেক আপের প্রতিশোধ নিতে প্রেমিকাকে ৩০০টি পার্সেল পাঠিয়ে হেনস্থা, গ্রেফতার যুবক

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে প্রাক্তন প্রেমিকাকে লাগাতার অনলাইন ডেলিভারি পার্সেল পাঠিয়ে চরম হয়রানি করার অভিযোগে নদিয়ার এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী সুমন সিকদার তার প্রাক্তন প্রেমিকা, যিনি কলকাতায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের এক্সিকিউটিভ পদে কর্মরত, তাঁকে চার মাসের ব্যবধানে প্রায় ৩০০টি ক্যাশ-অন-ডেলিভারি (সিওডি) পার্সেল পাঠিয়েছিলেন। এই ঘটনার জেরে অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্টের মতো জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলি অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করে দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমাহীন সিওডি পার্সেল পেতে থাকার পর ওই মহিলা গত মার্চ মাসে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের লেক টাউন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে, লেক টাউন থানা অজ্ঞাত পরিচয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ সুমন সিকদারকে শনাক্ত করে এবং গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেছে যে, সাম্প্রতিক বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধস্পৃহা থেকেই সে অনলাইনে এই বিপুল সংখ্যক ডেলিভারি বুক করেছিল।

পুলিশের জেরায় সুমন দাবি করেছে যে তার প্রাক্তন বান্ধবী অনলাইন শপিংয়ের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিল এবং প্রায়শই তাকে বিভিন্ন উপহার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করত, যা আর্থিকভাবে তার পক্ষে বহন করা কঠিন ছিল। এই চাহিদা পূরণ করতে না পারার কারণেই তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায় বলে সুমন মনে করে। বিচ্ছেদের পরই সে প্রাক্তন প্রেমিকার বাড়িতে একের পর এক পার্সেল অর্ডার করতে শুরু করে।

তদন্তে জানা গেছে, তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অব্যবহিত পরেই, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে এই হয়রানি শুরু হয়। লেক টাউন এলাকায় বসবাসকারী ওই মহিলার ঠিকানায় দামি গ্যাজেট, পোশাক এবং অন্যান্য বিভিন্ন জিনিসপত্র ভর্তি প্যাকেজ আসতে শুরু করে। ক্রমাগত এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ডেলিভারি আসতে থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি লেক টাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হন। পুলিশের তদন্তে অভিযুক্ত সুমন সিকদারকে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।