সুপ্রিম-রায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে আইনি নোটিস, ‘আইনি জটিলতা তৈরির চেষ্টা’-মন্তব্য কুনালের

চাকরি বাতিল সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্যের জেরে তাঁকে আইনি নোটিস পাঠাল দক্ষিণপন্থী সংগঠন ‘আত্মদীপ’। নোটিসে দাবি করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য “স্পষ্টতই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অবমাননা”। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শর্তহীন ক্ষমা দাবি করাহয়েছে, অন্যথায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
‘আত্মদীপ’-এর আইনি নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখাতে উৎসাহিত করতে পারে।
এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চাকরিহারাদের সুরাহা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনি জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে।” কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ‘আত্মদীপ’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং রাজ্য সরকারের জনমুখী উদ্যোগকে বানচাল করার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং রাজ্য সরকার আইনি পথে চাকরিহারাদের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাঁর কিছু মন্তব্যকে ‘আত্মদীপ’ সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা হিসেবে দেখছে।
আইনি নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী চাকরিহারাদের অধিকার রক্ষার জন্য বদ্ধপরিকর এবং কোনো প্রকার আইনি চাপ সৃষ্টি করে এই প্রচেষ্টা বন্ধ করা যাবে না।
এখন দেখার বিষয়, মুখ্যমন্ত্রী এই আইনি নোটিসের কী জবাব দেন এবং ‘আত্মদীপ’ পরবর্তীকালে কী পদক্ষেপ নেয়। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।