ভুয়ো অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নিচ্ছে মাস্কের এক্স, নেওয়া হচ্ছে বড় পদক্ষেপ

ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) ভুয়া বা প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটিতে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং অন্য ব্যবহারকারী বা ব্যক্তির ছদ্মবেশ ধারণকারী অ্যাকাউন্টগুলোর নামের শুরুতে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ‘ভুয়া’ বা ‘প্যারোডি’র মতো শব্দ ব্যবহার করা হবে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারোডি অ্যাকাউন্টধারীদের তাদের প্রোফাইল ছবিতে নিজেদের আসল ছবি ব্যবহার করতে বাধ্য করবে এক্স। এর ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের আসল পরিচয় জানতে পারবেন।
কিছু এক্স ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্মটিতে বিভিন্ন প্যারোডি অ্যাকাউন্টের কারণে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিয়ে অভিযোগ করেছেন। এমনকি ইলন মাস্কের ছদ্মবেশ ধারণকারী অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্টও রয়েছে।
শনিবার এক পোস্টে এক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “ব্যবহারকারীদের ভুয়া বা প্যারোডি অ্যাকাউন্টের অননুমোদিত প্রকৃতি আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং বিভ্রান্তি বা ছদ্মবেশ ধারণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করার জন্যই এই পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে।”
এক্স কর্তৃপক্ষ আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এসব অ্যাকাউন্টকে তাদের প্রোফাইল আপডেট করার জন্য উৎসাহিত করেছে। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো ফ্যান এবং ধারাভাষ্য অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
এক্স-এর এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আশা করি এসব নিয়মের আওতায় ইলন মাস্কের অ্যাকাউন্টের হাজার হাজার ভুয়া সংস্করণও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”
আরেকজন ব্যবহারকারী এক্স পোস্টে লিখেছেন, “আমি ইলন মাস্কের একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি সপ্তাহে একবার করে মেসেজ পাই। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেন।” প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মটিতে মাস্কের বেশ কয়েকটি প্যারোডি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যারা বিভিন্ন উপায়ে নিজেদেরকে ছদ্মবেশী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিভিন্ন প্যারোডি অ্যাকাউন্টের জন্য লেবেল চালু করেছিল এক্স। সেই নিয়ম অনুযায়ী, বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি বিভিন্ন প্যারোডি অ্যাকাউন্টধারীদের তাদের অ্যাকাউন্টকে সেই হিসেবেই পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির এ ধরনের পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক থেকেই গেছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছিল, ব্লু টিকওয়ালা অ্যাকাউন্টগুলোও তাদের অনলাইন কনটেন্টের নিয়ম লঙ্ঘন করছে এবং প্ল্যাটফর্মটির ‘ভেরিফিকেশন’ ব্লু টিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও ব্যবহারকারীরা ‘প্রতারিত’ হতে পারেন। এর জবাবে মাস্ক ইইউ’র বিভিন্ন নীতিমালাকে ‘ভুল তথ্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
এর আগে, ২০২২ সালের নভেম্বরে টুইটার অধিগ্রহণের পর টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বলেছিলেন, লেবেলবিহীন ছদ্মবেশধারী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট প্ল্যাটফর্মটিতে নিষিদ্ধ করা হবে। এবার ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্তকরণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় এক্স ব্যবহারকারীরা কতটা সুফল পান, সেটাই দেখার বিষয়।