“এক লক্ষ হিন্দু জালি হিন্দুদের বিরুদ্ধে জমায়েত করবে”-ফের হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রবিবার, ৬ এপ্রিল নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ার গাংড়ায় এক লক্ষ ‘জালি হিন্দুদের’ বিরুদ্ধে জমায়েতের ডাক দিলেন। রাম নবমীর পবিত্র দিনে ঐতিহ্যবাহী রাম জন্মভূমির আদলে মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের মন্দিরের ভূমিপূজন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা আগামী ১২ এপ্রিল বজরংবলির জন্মদিন পালন করবেন। এরপর আগামী ৩০ এপ্রিল অঙ্গয় তৃতীয়ার দিন কাঁথিতে এক লক্ষ হিন্দুর জমায়েত হবে জালি হিন্দুদের বিরুদ্ধে। যারা দীঘাতে সরকারি টাকায় মন্দির নয়, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করছে।”
এদিনের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “যারা নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেয়, অথচ হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান করে না, তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া হবে।” দীঘাতে মন্দির নির্মাণ না করে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজ্য সরকারের ‘হিন্দু-বিরোধী’ মানসিকতার সমালোচনা করেন।
বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ‘জালি হিন্দু’ বলতে তিনি কাদের উদ্দেশ্য করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, শাসক দল শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন আসন্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও তীব্র করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, শুভেন্দুর এই ‘হুঙ্কার’-এর পর রাজ্যে কী ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। আগামী ৩০ এপ্রিল কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এক লক্ষ হিন্দুর জমায়েত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।