লিভ-ইন সঙ্গীর হাত ধরেই অস্ত্র কারবারে ময়না! বিহার থেকে অস্ত্র এনে করতেন পাচার, গ্রেফতার দুই

পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের অভিযোগে ধৃত আজিজ মোল্লা ও ময়না মাঝিকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) হাতে। প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফ জানতে পেরেছে, ময়না মাঝি তার লিভ-ইন পার্টনার আজিজ মোল্লার হাত ধরেই অস্ত্র সরবরাহের জগতে পা রাখে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই যুগল গত ছ’বছর ধরে বেআইনি অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। তারা বিহার থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে পাটনা ও বর্ধমান হয়ে আনন্দপুরে নিয়ে আসত। সাম্প্রতিককালে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী শহরতলিতে বেআইনি অস্ত্র কারবারের অভিযোগে বহু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও, লিভ-ইন পার্টনার একসঙ্গে অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত থাকার ঘটনার নজির এই প্রথম, এমনটাই দাবি পুলিশের। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পুলিশের নজরদারি এড়াতে বেআইনি অস্ত্র কারবারীরা সঙ্গী মহিলাদেরও অস্ত্র পাচারে ব্যবহার করছে।
এসটিএফ জানিয়েছে, ময়না ও আজিজ বর্তমানে হুগলির পাণ্ডুয়ায় বসবাস করে। ময়নার এর আগে বিয়ে হয়েছিল, তবে স্বামীর অত্যাচারের কারণে তাকে ছেড়ে আজিজের সঙ্গে থাকতে শুরু করে সে। অন্যদিকে, আজিজও বিবাহিত এবং তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। আজিজ আদতে হুগলির বাসিন্দা এবং ময়না বর্ধমানের। তারা দুজনে লিভ-ইন সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই অস্ত্র কারবারে যুক্ত হয়। ধৃতদের কাছ থেকে বেআইনি অস্ত্রের পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আন্তঃরাজ্য অস্ত্রপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।
এসটিএফ সূত্রে খবর, গত কয়েক বছর ধরে বেআইনি অস্ত্র পাচার রুখতে পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় কারবারীরা নতুন কৌশল নিয়েছে। সেই কারণেই মহিলাদের সামনের সারিতে রাখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে পূজা নামে এক মহিলাকে বাস থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পূজার স্বামীও অস্ত্র পাচারে জড়িত ছিল এবং পূজাকে ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে বিহার থেকে অস্ত্র আনার জন্য পাঠানো হতো।
আজিজ ও ময়নার কাছ থেকে এসটিএফ মোট ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে সরকারি আইনজীবী অরূপ চক্রবর্তী বলেন, এই অস্ত্রপাচার চক্রে ভিন রাজ্যে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা বাকি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই যুগল কী কারণে কলকাতায় এসেছিল, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, কী ধরনের অপরাধ সংগঠনের জন্য তারা অস্ত্র এনেছিল এবং কাদের কাছে সেই অস্ত্র পৌঁছানোর কথা ছিল – এই সমস্ত তথ্য জানার জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এছাড়াও, আরও বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করা বাকি থাকতে পারে। আদালত ধৃতদের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।