‘আর কখনও বিজেপির সঙ্গ ছাড়ব না’, পটনায় অমিত শাহকে স্পষ্ট জানালেন নীতীশ কুমার

রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধীদের কাছে ‘পল্টুরাম’ নামে পরিচিত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ফের একবার তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন। বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে যখন তার দলবদলের জল্পনা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখন নীতীশ কুমার সরাসরি জানালেন, এনডিএ জোট থেকে বেরনোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
রবিবার পটনায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে নীতীশ কুমার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, তিনি আর কখনও বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করবেন না। জেডি(ইউ) প্রধানের এই মন্তব্য বিহারের রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য যখন বিরোধীরা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অধীনে রণকৌশল তৈরি করতে ব্যস্ত, তখন অমিত শাহ দু’দিনের বিহার সফরে যান। শনিবার রাতে তিনি এনডিএ-এর মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর রবিবার অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার যৌথভাবে একাধিক সরকারি প্রকল্পের সূচনা করেন। সেই অনুষ্ঠানেই নীতীশ কুমার তার অতীতের দলবদলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “দু’বার ভুল হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে বিজেপির সঙ্গ ত্যাগের মতো ভুল করার আর কোনও প্রশ্নই ওঠে না।”
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বেই আস্থা রাখছে বিজেপি। পটনার অনুষ্ঠানে অমিত শাহও জেডি(ইউ) প্রধানের প্রতি পূর্ণ আস্থা দেখান। উত্তরে, নীতীশ কুমার ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিয়ে তার ভাষণ শুরু করেন। এরপর তিনি বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “আগের সরকার রাজ্যের জন্য কী করেছে? তারা সংখ্যালঘু ভোট পেয়েছে ঠিকই, তবে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ থামাতে পারেনি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “রাজ্যে কোনও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছিল না, উচ্চ শিক্ষার কোনও সুযোগ ছিল না। ২০০৫ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের বহু উন্নতি হয়েছে।”
অন্যদিকে, এবারের নির্বাচনে এনডিএ-কে ক্ষমতাচ্যুত করতে মরিয়া বিরোধীরা। কংগ্রেস তাদের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে, বিজেপি-জেডিইউ জোট ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বদ্ধপরিকর। যদিও নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অতীতে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছে।
জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর সম্প্রতি নীতীশ কুমারকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে কী ঘটছে সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামও বলতে পারবেন না। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবও একই সুরে নীতীশ কুমারের শারীরিক ও মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য, নীতীশ কুমার নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন। অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় তিনি রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ২০০৫ সালে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জয়ী হলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন। তবে, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে পরাজিত হন। তিন বছর পর তিনি ফের এনডিএ জোটে ফিরে আসেন।
এরপর ২০২২ সালে নীতীশ কুমার আবারও বিজেপি ত্যাগ করে আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে সরকার গঠন করেন। তবে সেই জোটও বেশিদিন টেকেনি এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ গঠনে খানিকটা ভূমিকা রাখার পরেও তিনি ফের এনডিএ শিবিরে যোগ দেন। এবার অবশ্য তার দৃঢ় দাবি, তিনি আর অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি করবেন না।