হায়দরাবাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ে ত্রাতা অনিকেত, দিল্লিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন ঝাঁসির তরুণ তুর্কি

নিলামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাঁকে দলে নিয়েছিল মাত্র ৩০ লক্ষ টাকায়। হয়তো তেমন বড় কোনো প্রত্যাশা ছিল না। তবে মধ্যপ্রদেশ টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে তাঁর আকাশছোঁয়া ছক্কাগুলো নজর কেড়েছিল সকলের। আইপিএলের বিশাল মঞ্চে তেমন ব্যাটিং করা তো স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণ হল বছর তেইশের তরুণ ক্রিকেটার অনিকেত বর্মার। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে যখন সানরাইজার্সের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ মুখ থুবড়ে পড়েছে, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন এই তরুণ তুর্কি। ৪১ বলে ৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেন তিনি। মারলেন ৫টি বাউন্ডারি ও ৬টি বিশাল ছক্কা। মূলত অনিকেতের বিস্ফোরক অর্ধশতরানের ওপর ভর করেই সানরাইজার্স ১৬০ রানের গন্ডি পেরোতে সক্ষম হয়।

কে এই অনিকেত বর্মা?

২০০২ সালে ঝাঁসিতে জন্ম হয় অনিকেতের। মাত্র তিন বছর বয়সেই তিনি মাকে হারান। এরপর কাকার কাছেই বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা ছিল। সেই আগ্রহ দেখেই কাকা তাঁকে ক্রিকেট ব্যাট ও বলের সঙ্গে পরিচয় করান। রেলওয়ে যুব ক্রিকেট ক্লাবে নন্দজিৎ স্যারের অধীনে ক্রিকেট অনুশীলন শুরু করেন অনিকেত। এরপর জ্যোতিপ্রকাশ ত্যাগীর তত্ত্বাবধানে অঙ্কুর ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে তিনি আরও জোরকদমে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো পারফর্ম করে এসেছেন অনিকেত। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশ প্রিমিয়ার লিগে ভোপাল লেপার্ডসের হয়ে ৬ ম্যাচে ২৭৩ রান করেছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের স্কাউটদের নজরে আসে।

বিশাখাপত্তনমের বাইশ গজে যেখানে মিচেল স্টার্ক ও কুলদীপ যাদবের সামনে অন্য ব্যাটসম্যানরা অসহায় আত্মসমর্পণ করছেন, সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন অনিকেত। ২.৩ ওভারে দলের স্কোর যখন ২৫/৩, তখন ক্রিজে আসেন তিনি। ইনিংসের মাঝে একবার জীবনও পান। অভিষেক পোড়েল তাঁর একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ব্যাটিংয়ের গিয়ার পরিবর্তন করেন অনিকেত। মাত্র ৩৪ বলে নিজের প্রথম আইপিএল অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান।

অন্যদিকে, দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলারদের মধ্যে মিচেল স্টার্ক একাই এদিন পাঁচ উইকেট তুলে নেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে আরও একবার আইপিএলে নিজের জাত চেনালেন এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার। কুলদীপ যাদব নেন ৩টি উইকেট। তবে এদিন দিল্লি শিবিরে লাইমলাইট কেড়ে নেন মিচেল স্টার্ক। এবারের আইপিএলে প্রথম ম্যাচে তিনি তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন। আজ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে তিনি পাঁচটি সাফল্য পেলেন। তাঁর আগুনে বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই দিশেহারা হয়ে যায় সানরাইজার্সের তারকাখচিত টপ অর্ডার। ঈশান কিষাণ ও ট্র্যাভিস হেডকে দ্রুত সাজঘরে ফেরান স্টার্ক। দ্বিতীয় স্পেলে পুরনো বল হাতে ইনিংসের শেষ দিকে এসেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন তিনি। ১৯তম ওভারে জোড়া উইকেট নিয়ে সানরাইজার্সের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান এই অজি পেসার। আজকের পাঁচ উইকেট মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল আট।