মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা, আগামী ৩-৪ বছর আমেরিকায় পড়তে না আসার পরামর্শ স্নাতকের

বহু ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীর কাছেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন থাকে। উন্নত শিক্ষা, উজ্জ্বল কর্মজীবনের হাতছানি এবং বিদেশে বসবাসের সুযোগ প্রতি বছর অজস্র পড়ুয়াকে আকৃষ্ট করে। তবে, বাস্তবে এই স্বপ্নপূরণের পথ মোটেও মসৃণ নয়। সম্প্রতি, রেডিটের এক ব্যবহারকারী, যিনি নিজেকে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বলে দাবি করেছেন, মার্কিন শিক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

রেডিটে করা একটি পোস্টে ওই ব্যবহারকারী আমেরিকায় পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে, আগামী ৩-৪ বছর যেন কোনো ভারতীয় শিক্ষার্থী ভুল করেও আমেরিকায় পড়াশোনা করতে না আসেন, সেই পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। ওই ব্যবহারকারী লেখেন, “কোচিং মাফিয়ারা জোরকদমে জালিয়াতি চালাচ্ছে। বারবার ধরে তারা সকলকে বলছে যে আমেরিকা হল অঢেল ধন-সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার দেশ। ভুলেও আগামী ৩-৪ বছরে আমেরিকায় পড়তে আসবেন না।” তার মতে, বহু ছাত্র-ছাত্রী এখানে পড়াশোনা শেষ করে উপযুক্ত চাকরি পান না এবং পরবর্তীতে গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হন।

এই পোস্টটি দ্রুত বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং অনেকেই তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা কমেন্ট বক্সে শেয়ার করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “২০২২ সালে এখানে মানুষজন স্নাতক শেষ করার আগেই তিন-তিনটে চাকরির প্রস্তাব পেয়ে যেত। আর এখন স্নাতক হওয়ার পরেও মনের মতো একটা চাকরি পাওয়াও কঠিন। আপনি যদি প্রচুর ধনী হন এবং বড় ঝুঁকি নিতে রাজি থাকেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে টাকা দেবেন, তা লোকসান হিসেবে ধরে নিয়ে আসতে পারেন।”

আরেকজন কমেন্টে সহমত পোষণ করে লেখেন, “একদম সত্যি কথা, সহমত। আপনার যদি ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, নেবেন না। এর থেকে ভালো ভারতে থেকে নিজের উপর অত্যাচার করা।”

অন্য একজন নেটিজেন আরও বিস্তারিতভাবে তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানান, ২০২৩ সাল থেকে তিনি একটিও চাকরি পাননি, এমনকি এফ ওয়ান ভিসায় কোনো ইন্টারভিউ পর্যন্ত পাননি। তার পরামর্শ, “ভারতে ৫-৬ বছর আরও কাজ করুন। তারপর এখানে চাকরির খোঁজ করতে পারেন। মার্কিন দুনিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরি খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন, তা বুঝতে পারবেন।”

এই পোস্ট এবং মন্তব্যগুলি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। যেখানে একসময় চাকরির সুযোগের প্রাচুর্য ছিল, সেখানে বর্তমানে স্নাতকদের চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, যা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ এবং মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।