সমবায়ে জমানো টাকা না মেলায় বিনা চিকিৎসায় মহিলার মৃত্যু, ধূপগুড়িতে চাঞ্চল্য

সমবায় সমিতিতে দীর্ঘ দিন ধরে জমানো টাকা ফেরত না পাওয়ায় বিনা চিকিৎসায় এক মহিলার মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের বারঘরিয়া এলাকায়। মৃতার নাম আরতি দাস, তিনি বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর বোড়াগাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

এই ঘটনায় স্থানীয় দামবাড়ি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। অভিযোগ, ওই এলাকার প্রায় তিন শতাধিক মানুষ ওই সমবায় সমিতিতে টাকা জমা রেখেছিলেন। তবে গত ৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে সমিতিটির কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। এর আগেও আমানতকারীদের একাংশ তাদের জমানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় একাধিকবার ধর্নায় বসেছিলেন, কিন্তু কোনো সুরাহা মেলেনি।

মৃত আরতি দাসের পরিবারের অভিযোগ, সমবায়ে জমানো টাকা ফেরত না পাওয়ায় অর্থাভাবে তারা আরতির সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেননি। এই কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

স্থানীয় আমানতকারীদের দাবি, এর আগেও একই ভাবে জমানো টাকা না পাওয়ায় বিনা চিকিৎসায় এই এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছিল। তাদের আরও অভিযোগ, সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কষ্ট করে উপার্জন করা টাকা সমবায়ে জমা দিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন গোটা গ্রামের মানুষ। কেউ জমানো টাকা হারিয়েছেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের সঞ্চয়টুকুও ফেরত পাচ্ছেন না।

আমানতকারীরা সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তারা সমবায় ব্যাঙ্কের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের কাছে টাকা নেই।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক অরূপ দে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি দুর্নীতির সাথে কেউ যুক্ত থাকে, প্রশাসন তদন্ত করে উপযুক্ত শাস্তি দেবে। দলীয়ভাবেও এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সমবায়ে টাকা জমা রেখে সর্বস্বান্ত হওয়া পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে তাদের জমানো টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।