বেলেঘাটায় রহস্যমৃত্যুর কিনারা, ফ্ল্যাট বিক্রির জের, দাদার হাতেই খুন ভাই

বেলেঘাটায় যুবক রোহন মণ্ডল খুনের রহস্যের পর্দা উঠল অবশেষে। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, ২৭ বছর বয়সী রোহনকে খুন করেছেন তারই দাদা অভিজিৎ মণ্ডল। ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত দাদা অভিজিৎকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বেলেঘাটার একটি ফ্ল্যাট থেকে রোহন মণ্ডলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। রোহনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে দানা বাঁধে রহস্য। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা সহ একাধিক সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও, তদন্তে নামে বেলেঘাটা থানার পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বেলেঘাটার ওই ফ্ল্যাটটি বিক্রি করা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, দাদা অভিজিৎ ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ইতিমধ্যেই অগ্রিম টাকা নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ভাই রোহন ফ্ল্যাট বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। সেই সময় বাড়িতে থাকা সবজি কাটার ছুরি দিয়েই অভিজিৎ তার ছোট ভাই রোহনকে এলোপাথাড়ি কোপ মারে।
পুলিশকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করে অভিজিৎ। ভাইকে খুনের পর সে ঘটনাস্থলেই ছিল এবং পুলিশকে জানায় রোহন এর আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। এমনকি, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোহনের শেষকৃত্যও সম্পন্ন করে অভিযুক্ত দাদা অভিজিৎ। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়ে এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয় অভিজিৎ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বছরখানেক আগে রোহনের বিয়ে হলেও পারিবারিক অশান্তির কারণে তার স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন রোহন। জানা গেছে, রোহনের কোনো চাকরি ছিল না এবং তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হয়েছিল রোহন আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হয় যে রোহনকে খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানান, মৃতের শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তা কোনোভাবেই আত্মহত্যার কারণে হওয়া সম্ভব নয়।
এরপরই খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে বেলেঘাটা থানার পুলিশ। অবশেষে তদন্তের জট খোলে এবং গ্রেফতার হয় মূল অভিযুক্ত, রোহনের দাদা অভিজিৎ মণ্ডল। ফ্ল্যাট বিক্রির সামান্য বিরোধ যে এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে, তা ভাবতেও পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।