মালদহে থমকে গ্রামীণ উন্নয়ন, ১০০ কোটি টাকা খরচই করতে পারল না! জবাব তলব নবান্নের

গ্রামোন্নয়নের জন্য বরাদ্দ হওয়া ৯৬ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা খরচ করতে ব্যর্থ মালদহ জেলা প্রশাসন। পিছিয়ে পড়া গ্রামের উন্নতির জন্য রাজ্য সরকার যে অর্থ বরাদ্দ করেছিল, তার বেশির ভাগটাই অব্যবহৃত রয়ে গেছে। এই বিষয়ে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে।

গ্রামোন্নয়ন দফতরের মাধ্যমে মালদহ জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও বিভিন্ন পঞ্চায়েতের দায়িত্ব ছিল এই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো। কিন্তু প্রশাসনিক মহলের মতে,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়নি।টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি।রাজনৈতিক অন্তর্কলহের জেরে উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই গাফিলতির মূল দায় মালদহ জেলা পরিষদের, কারণ জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের দায়িত্ব তাদের কাঁধে।

শুক্রবার সরেজমিনে মালদহ জেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, অফিস প্রায় ফাঁকা। মনে হচ্ছিল, যেন ছুটির দিন! অভিযোগ, গত দেড়-দু’বছর ধরেই তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের এই অবস্থা।

সময়মতো কাজ হয় না।অধিকাংশ আধিকারিক অফিসে উপস্থিত থাকেন না।সাধারণ মানুষ পরিষেবা পেতে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মালদহ জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ রেজাউল করিম বক্সী দাবি করেছেন,”প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। তাই ১০০ কোটির বেশির ভাগ টাকা খরচ হয়নি। তবে কয়েকশো কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ব্যয় করা হয়েছে।”

জেলা পরিষদের শীর্ষ আধিকারিকরা অফিসে আসেন না—এই অভিযোগ তিনি উড়িয়ে দেন। তাঁর দাবি, “সভাধিপতি-সহ অন্যান্যরা নিয়মিত অফিসে আসেন।”

তবে প্রশাসনিক স্তরে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ অনেকে। নবান্ন ইতিমধ্যেই রিপোর্ট তলব করেছে, ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।