কুণাল কামরার আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট

ভারতের জনপ্রিয় ব্যঙ্গ কৌতুকশিল্পী ও প্যারোডি রচয়িতা কুণাল কামরার আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। তিনি শুক্রবার মাদ্রাজ হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন, এর পেছনে ছিল তার বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে ‘গদ্দার’ (বিশ্বাসঘাতক) বলে ব্যঙ্গ করা একটি মন্তব্য।

মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানে কুণাল কামরা একনাথ শিন্ডে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে রঙ্গ-রসিকতা করেছিলেন, যা পরে মহারাষ্ট্র সরকারের দ্বারা তীব্র সমালোচিত হয়। এই মন্তব্যের পর, মহারাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে তলব করা হয়। এর ফলে তিনি মুম্বই ছেড়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে যান এবং গ্রেফতারির আশঙ্কায় মাদ্রাজ হাইকোর্টে ট্রানজিট আগাম জামিনের আবেদন করেন।

কামরার আইনজীবী মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি সুন্দর মোহনের এজলাসে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন। কামরার দাবি, তামিলনাড়ুর ভিল্লুপুরমে তার স্থায়ী বাসস্থান হওয়ায় এবং মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচার ব্যবস্থা তার এক্তিয়ারভুক্ত হওয়ায় এখানে জামিন আবেদন করার প্রয়োজন ছিল।

কুণাল কামরা কী বলেছিলেন?
কুণাল কামরা সম্প্রতি একটি লাইভ প্রোগ্রামে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে ব্যঙ্গ করেন। তিনি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির ভাঙন নিয়ে হাস্যকর মন্তব্য করেন এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে ‘গদ্দার’ বা বিশ্বাসঘাতক বলে উল্লেখ করেন। কামরা তার বক্তব্যে বলেন, “মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ছিল। একে অপরকে শত্রু বলে মন্তব্য করা, আবার একে অপরকে সমর্থন করা। ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের হাতে ৯টি বোতাম দেওয়া হয়েছিল।”

এছাড়া, তিনি হিন্দি ছবির জনপ্রিয় গান “দিল তো পাগল হ্যায়”-এর একটি প্যারোডি গেয়ে উপস্থিত শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে দেন। গানটি ছিল শিন্ডের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য। তিনি বলেন, “মন্ত্রালয়ের চেয়ে বেশি ফড়নবিশের গোদিতে মিল যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

কামরার এই মন্তব্যের পরই মহারাষ্ট্র সরকার তাকে আইনি সমস্যার মুখে ফেলেছিল, যার কারণে তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেন। মাদ্রাজ হাইকোর্ট তার আবেদন মঞ্জুর করে, ফলে কামরা কিছুটা স্বস্তি পেলেন।

এই ঘটনাটি ভারতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যেখানে সেলিব্রিটি বা কৌতুকশিল্পীদের সামাজিক মন্তব্য ও আইনি প্রভাবের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছে।