১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ‘কন্ডোম কৌশল’: পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নভিন্ন করার এক অদ্ভুত উপায়

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসিকতা এবং কৌশলগুলো শুধু বীরত্বের ইতিহাসই তৈরি করেনি, বরং কিছু অনন্য এবং অদ্ভুত কৌশলও আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘কন্ডোম কৌশল’, যা পাক বাহিনীকে পিছু হটাতে এক বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনা এবং নৌবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের লড়াই চালিয়ে যায়। ভারতীয় নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি বাহিনীর সাপ্লাই লাইন বন্ধ করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ভারতীয় নৌবাহিনী পাক সেনার রণতরীগুলি গুঁড়িয়ে দিতে ‘লিম্পেট মাইন’ ব্যবহার করেছিল। তবে এই মাইনগুলি সফলভাবে লাগানোর জন্য প্রয়োজন ছিল ডুবুরিদের, যারা মাইনগুলি জলের নীচে নিয়ে গিয়ে রণতরীর হালের সাথে লাগিয়ে দেবে।

তবে একটি সমস্যা ছিল—এই মাইনগুলির বিস্ফোরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন, যা ছিল ৩০ মিনিট। এই সময়ে মাইনগুলিকে নিরাপদে রাখতে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল। ঠিক এই সময়েই ভারতের সেনারা একটি অভিনব উপায় গ্রহণ করে। তারা শত শত কন্ডোম অর্ডার করেছিল এবং সেগুলি দিয়ে লিম্পেট মাইনগুলিকে মুড়িয়ে দিয়েছিল। কন্ডোমের সাহায্যে মাইনগুলি সুরক্ষিত থেকে বিস্ফোরণের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারত, ফলে ভারতীয় নৌবাহিনী পাকিস্তানি রণতরীগুলিতে সফলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছিল।

এছাড়াও, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের পাহাড়ে মোতায়েন রাজপুত রেজিমেন্টের বাহিনীও কন্ডোমের সাহায্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল প্রয়োগ করেছিল। চট্টগ্রামের পাহাড়ে মিজো জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ আটকানোর জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখানকার জলাভূমি এবং কাদায় রাইফেলগুলি প্রায়ই আটকে যেত। সেই সময়, রাজপুত রেজিমেন্টের সেনারা বন্দুকের যন্ত্রাংশকে জল ও কাদা থেকে রক্ষা করার জন্য কন্ডোম ব্যবহার করতে শুরু করেছিল। তারা প্রত্যেক জওয়ানকে তিনটি করে কন্ডোম দিয়েছিল, যার মাধ্যমে বন্দুকগুলিকে নিরাপদে এবং কার্যকরীভাবে ব্যবহার করা যেত।

রাজপুত রেজিমেন্টের এই কৌশলটি পরে সেনাবাহিনীর কাছে একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছিল। কন্ডোম দিয়ে বন্দুক ঢেকে সেনারা জলাভূমির মধ্যে চলাফেরা করত এবং বন্দুকগুলি কাদা বা জল থেকে নিরাপদ থাকত। প্রয়োজনমতো কন্ডোম খুলে বন্দুক চালানোও সহজ ছিল।

এই অদ্ভুত কৌশলগুলো কেবল ভারতীয় সেনাবাহিনীর বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক কৌশলের উদাহরণই নয়, বরং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের এক অজানা এবং আকর্ষণীয় অধ্যায়ও।