ভোটার তালিকা থেকে ‘ভুয়ো’ ভোটার সরানোর কাজ শুরু, শুভেন্দুর দাবি—হিন্দি ও হিন্দু বাঙালি ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে

রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে ‘ভুয়ো’ ভোটার সরানোর কাজে তৎপর হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকার। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শুরু হয়েছে সমীক্ষা, যার অংশ হিসেবে তৃণমূল নেতারা বর্তমানে দরজায় দরজায় গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই করছেন। তবে এই নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে ফের একবার সরব হয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা থেকে আসল ‘ভুয়ো’ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বদলে আদতে হিন্দি ভাষী ও হিন্দু বাঙালি ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা শুরু হয়েছে এবং এ ব্যাপারে তিনি নির্বাচন কমিশনকে কৃষ্ণনগরের বিডিওকে শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটার তালিকায় হিন্দুদের নাম কাটা হচ্ছে। বাগদা এবং কৃষ্ণনগরের বিডিও এই কাজ করছেন। হিন্দু ভোটারদের ডেকে বলছেন, আপনি যদি বাংলাদেশি না হন, তাহলে আপনার পরিচয় প্রমাণ করতে হবে। এই সব ঘটনার প্রতিবাদে আমরা বাগদা ও কৃষ্ণনগরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান পালন করব।”

বিজেপির এই নেতা আরও বলেন, “যদি পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো ভোটার ধরতেই হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ভোটারদের পরিচয় যাচাই করতে হবে।” তিনি দাবি করেছেন যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হচ্ছে বিশেষত সেই সব বুথ থেকে, যেখানে ‘অবাঙালি’ জনসংখ্যা বেশি। আইপ্যাকের পরামর্শে এসব বুথে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তৃণমূলের এক নেতার দাবি, ভোটার তালিকা সমীক্ষার কাজ সঠিকভাবেই হচ্ছে এবং সমস্ত নিয়ম মেনেই এই কাজ করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের এবং তারা শুধুমাত্র সুষ্ঠু ভোট প্রদানে সহায়তা করছে।

এদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। বিরোধীরা যে অভিযোগ তুলে ধরছেন, তাতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতারা এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ তুলছেন, তবে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অবস্থান থেকে একদম সরছে না।