চাপড়া থানা আইসি’র ছবি নিয়ে বিতর্ক, তৃণমূল কর্মসূচিতে উত্তরীয় পরার কারণে চাঞ্চল্য

সম্প্রতি চাপড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে এক বিতর্কিত ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে চাপড়া থানার আইসি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়কে তৃণমূলের প্রতীক চিহ্নযুক্ত উত্তরীয় পরতে দেখা গেছে। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চাপড়া থানা এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।

বেশ কয়েকদিন ধরে চাপড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। এই কর্মসূচিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল চাপড়া থানার বড় আন্দুলিয়া সহ একাধিক জায়গায় অনুষ্ঠিত সভা। এসব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন আইসি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়। এই কর্মসূচির মধ্যে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সময় ছবি তোলা হয়, যেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায় আইসি গলায় তৃণমূলের প্রতীক চিহ্নযুক্ত উত্তরীয় পরা অবস্থায় মঞ্চে বসে আছেন। এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক।

এটি ছিল তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠান, যেখানে আইসি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। ছবিটি প্রকাশের পর, বিজেপি নেতারা এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিজেপির নেতা সোমনাথ কর বলেন, “ছবি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, থানার আইসি তৃণমূলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করছেন। প্রশাসনের একজন কর্তা হয়ে কীভাবে একটি দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন যুক্ত উত্তরীয় পরতে পারেন? যদি মঞ্চে উপস্থিত অপরাধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা আসে, তাহলে তার স্পর্ধা হবে কি?”

এদিকে, তৃণমূল উত্তর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবাশিস রায় এই বিষয়ে বলেন, “এ ধরনের অনুষ্ঠানে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানানো হয়। সেখানে যদি কোনো পুলিশ আধিকারিককে সম্মান জানানো হয়, তাতে বিতর্কের কিছু নেই।” তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন ছিল কিনা তা তিনি নিশ্চিত নন, তাই সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।”

এমন বিতর্কের মধ্যে, ছবিটি নিয়ে চাপড়া এলাকার মানুষের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু একটি সামাজিক সম্মান প্রদর্শন হলেও, কিছু রাজনৈতিক মহল এই ছবির মাধ্যমে প্রশাসনিক পক্ষের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

এদিকে, বিষয়টির সত্যতা যাচাই না করেই ভাইরাল হওয়া ছবি এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক বিতর্কে চাপড়া থানা এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয় হল, প্রশাসন বা রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়।