আসানসোলে পুকুর বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙল প্রশাসন, এলাকাবাসীর দাবি পুনরায় খনন করতে হবে পুকুর

আসানসোলের পলাশডিহা মৌজায় ‘জ্যোতি নগর’ নামে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠছিল, যার জন্য একটি প্রাচীন পুকুর বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ করা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ পাওয়ার পর, আসানসোল পুরনিগম ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা তৎপর হয়ে ওই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে খুশি এলাকাবাসী, তবে তাদের দাবি, পুকুরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।
আসানসোল পুরনিগমের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পলাশডিহা মৌজায় একটি বহু পুরনো পুকুর ছিল, যার অর্ধেকের বেশি অংশ বুজিয়ে একটি বেআইনি নির্মাণ তৈরি করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছিলেন, প্রশাসন এতে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, যার ফলে নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এর পরেই প্রশাসন সোমবার দুপুরে অভিযানে নেমে বুলডোজারের সাহায্যে ওই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেয়।
আসানসোল পুরনিগমের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়র রাজেশ কুমার শ্রীবাস্তব জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়েছিলাম যে এখানে একটি পুকুর বুজিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আজ এখানে এসে নির্মাণ ভেঙে দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করব জমিটিকে আবার পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনার।”
তবে, আসানসোল পুরনিগমের ইঞ্জিনিয়র আরও জানান, এই বেআইনি নির্মাণের পেছনে কে ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, কেন প্রশাসন এত দেরিতে ব্যবস্থা নিল? পুকুর বুজানোর সময়ই কি ব্যবস্থা নেওয়া যেত না?
এ বিষয়ে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব বিভাগের রেভিনিউ আধিকারিক সৌম্যদীপ দত্ত বলেন, “যখনই আমরা অভিযোগ পাই, আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই। তবে সব সময় আগেভাগে খবর পাওয়া যায় না। খবর পেয়ে আমরা বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিয়েছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিলেই হবে না, পুকুরটি পুনরায় খনন করা উচিত। বিকাশ দাস নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই পুকুরটি বহু পুরনো। এখানে ছটপুজো হতো, অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও হতো। আমাদের খারাপ লাগে যে প্রকাশ্যে পুকুরটি বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। তাই শুধু নির্মাণ ভেঙে দিলেই হবে না, পুকুরটিকে পুনরায় খনন করতে হবে। এছাড়া, এলাকায় আরও তিনটি পুকুর রয়েছে, সেগুলির সংস্কারও করতে হবে।”
এদিকে, রেভিনিউ আধিকারিক সৌম্যদীপ দত্ত জানিয়ে দিয়েছেন, “বেআইনি জমি দখল করে বা পুকুর বুজিয়ে নির্মাণ হলে, তা ভেঙে দেওয়া হবে। তবে, পুকুর পুনরায় খনন করা পুরনিগমের কাজ।”
এভাবে, প্রশাসনিক তৎপরতায় বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়ায় এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি পেলেও, তাদের আশা, পুকুর পুনরায় খনন হয়ে এলাকাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ হবে।