তৃণমূলে কি মহারাষ্ট্র মডেল? অভিষেক-বিরোধী ৫০ বিধায়কের গোপন বৈঠকে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কি মহারাষ্ট্রের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে? শিবসেনা কিংবা এনসিপি-র মতো তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও কি ফাটল চওড়া হয়ে ‘একনাথ শিন্ডে’ মডেলের দিকে এগোচ্ছে? সোমবারের ঘটনাক্রম এবং বিধায়কদের গোপন বৈঠক সেই জল্পনাকেই যেন আরও উসকে দিল।

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার সোমবারই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের নথি জালিয়াতির। তবে এই বহিষ্কারের আগেই ঋতব্রতর নেতৃত্বে  অন্দরে বিদ্রোহের আঁঁচ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ জন বিধায়ক একজোট হয়েছেন এবং তাঁরা নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন।

গোপন বৈঠক ও ‘আমরা-ওরা’ বিভাজন  TMC দলের অন্দরে ‘আমরা বনাম ওরা’ বিভাজন এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে ৮০ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত ছিলেন, যা শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। বিভিন্ন হোটেল এবং বিধায়কদের বাড়িতে দফায় দফায় গোপনে বৈঠক করছেন বিক্ষুব্ধরা। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং মুখপাত্র কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে এই বৈঠকের খবর স্বীকার করে নিয়েছেন। মদন মিত্র বলেন, ‘‘সব খবরই আমাদের কাছে এসে গেছে।’’

মমতার ‘মহারাষ্ট্র’ আতঙ্ক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, মহারাষ্ট্রের মতো বাংলাতেও বিজেপি দল ভাঙানোর চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহীরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে শিবসেনার শিন্ডে বা এনসিপির অজিত পাওয়ারের মতো পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। দলের নাম একই রেখে, বকলমে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করার এই কৌশলই এখন তৃণমূলের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ।

নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিট বনাম কালীঘাটের লড়াই প্রকাশ্যে এসেছে। অভিষেকের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, টিকিটের বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ এবং প্রবীণ বনাম নবীনের দ্বন্দ্ব এখন চরম পর্যায়ে। বহু পরাজিত ও জয়ী নেতা সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিষেক দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংগঠন দুর্বল হয়েছে।

বিজেপির দরজা আপাতত বন্ধ থাকায়, এখন ঘাসফুল শিবিরের বিদ্রোহী অংশ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া। রাজনীতির কারবারিদের মতে, তৃণমূলের এই টালমাটাল পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে বড়সড় পরিবর্তনের দিকে মোড় নিতে পারে।