“অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩,০০০ টাকা”-প্রথমে কত মহিলা পাচ্ছেন? জেলায় জেলায় শিবির

রাজ্য সরকারের নতুন জনমুখী প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র টাকা বণ্টনের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। বুধবার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছেন যে, ওই দিন থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকার প্রথম কিস্তি পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রস্তুতি ও লক্ষ্যমাত্রা প্রথম দফায় ৯০ হাজারেরও বেশি উপভোক্তাকে এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য। বুধবার রাজ্যের প্রতিটি ব্লক ও পুরসভা এলাকা থেকে ১০০ জন করে উপভোক্তাকে প্রতীকী অনুমোদনপত্র তুলে দেওয়া হবে। কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরোর প্রতিটিতে বিশেষ দল গঠন করে কাজ তদারকি করছেন শীর্ষ কর্তারা। বিশেষ করে বস্তি ও নিম্নআয়ের আবাসিক এলাকাগুলোতে সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণের কাজে সাহায্য করছেন।
ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ও আশঙ্কা প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও, কিছু জায়গায় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। ১২ পাতার দীর্ঘ আবেদনপত্র এবং তাতে চাওয়া বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এই তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন, তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার হতে পারে। যদিও প্রশাসনের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করতেই এই বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর আবেদনপত্র পূরণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও, অধিকাংশ জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা প্রত্যাশিত মাত্রায় নয় বলে অভিযোগ প্রশাসনের একাংশের। তবুও সরকারের দাবি, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পুরোনো তালিকা ধরে যাচাই বাছাইয়ের কাজ দ্রুত চলছে, যাতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো বঞ্চিত না হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ প্রথম কিস্তির অর্থ বিতরণের পর রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ও ওয়ার্ডে বিশেষ শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে বাদ পড়া যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। সরকারি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি এই প্রক্রিয়াকে কতটা গতিশীল করে, এখন সেটাই দেখার।