“গণধর্ষণ হলে সন্দেহভাজন কারা?”- প্রশ্ন বিচারপতির, যা উত্তর দিল CBI

তিলোত্তমা মামলায় সিবিআই-এর তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। গণধর্ষণ না শুধুই একজনের অপরাধ, শুনানির শুরুতেই জানতে চান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, সিবিআই এখনও পর্যন্ত কী তথ্য পেয়েছে? গণধর্ষণের প্রমাণ আছে কি না, নাকি শুধুই প্রমাণ নষ্টের ঘটনা ঘটেছে?
আর জি কর মামলায় সিবিআই-কে কেস ডায়েরি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তা জানতে চায় হাইকোর্ট।
বিচারপতির প্রশ্ন:এটি গণধর্ষণের মামলা নাকি শুধুই ধর্ষণ?গণধর্ষণ হলে সন্দেহভাজন কারা?একটি চার্জশিট জমা পড়েছে, এরপর আর কোনও চার্জশিট কেন দেওয়া হয়নি?কোন কোন ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে? সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিই কি একমাত্র অভিযুক্ত, নাকি আরও কেউ জড়িত?বিচারপতি সিবিআই-এর উদ্দেশে বলেন, “আমাদের রিপোর্ট লাগবে না, দরকার কেস ডায়েরি।”
রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমাদের কোনও তদন্তে আপত্তি নেই। কিন্তু আদালত কি ট্রায়ালের পর ফের তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে?”
তিনি আরও প্রশ্ন করেন:এক বছর ধরে সিবিআই কী করছে, মানুষ জানতে চায়।পরিবার কেন হাইকোর্টে এসেছে? তারা বিশেষ আদালতে আবেদন জানাচ্ছে না কেন?বিশেষ আদালত কি এই তদন্তের অনুমতি দিতে পারে?
সিবিআই-এর পক্ষ থেকে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার আদালতে বলেন, “আমাদের আরও কিছুটা সময় দেওয়া হোক।”এই দাবির পরপরই বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আপনার সব অফিসার প্রস্তুত, তাহলে সমস্যা কোথায়?”
তিলোত্তমার পরিবারের আইনজীবী সুদীপ্ত মৈত্র আদালতে দাবি করেন:পরবর্তী তদন্ত আদালতের নজরদারিতে হোক।SIT (বিশেষ তদন্তকারী দল) গঠন করা হোক, যাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিকরা থাকবেন।সাড়ে সাত মাস হয়ে গেল, এখনও নিরাপত্তারক্ষী ও নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।সিবিআই যেন স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয়, এই দাবি জানানো হয় আদালতে।
প্রথম থেকেই তিলোত্তমার পরিবার দাবি করে আসছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। কারোর একার পক্ষে এই ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। প্রকৃত দোষীদের আড়াল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। সিবিআই তদন্তের পদ্ধতি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৮ মার্চ।