“৭৫ দিনে ১২ লক্ষের বেশি মানুষের চিকিৎসা ‘সেবাশ্রয়’-এ”-মানুষের হাসিই পুরস্কার, জানালেন অভিষেক

‘সেবাশ্রয়’ আর শুধুমাত্র কয়েকটি স্বাস্থ্য শিবিরের নাম নয়। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এটি এখন একটি গভীর আবেগ এবং ভরসার কেন্দ্র। ৭৫ দিনে ১২ লক্ষেরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে এই উদ্যোগ নজির গড়েছে। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মানবিক প্রয়াস শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, গোটা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। গত ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৭৫ দিনে ৫৬১টি ক্যাম্পের মাধ্যমে এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে, যা কেবল স্থানীয় বাসিন্দাদেরই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের জন্যও আশার আলো জ্বেলেছে।
‘সেবাশ্রয়’—এক অসাধারণ যাত্রা
শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “ডায়মন্ড হারবারের মানুষ আমাকে টানা তিনবার সাংসদ করেছেন। তাঁরা আমার উপর এমন এক ঋণ চাপিয়ে দিয়েছেন, যা আমি কোনও দিন শোধ করতে পারব না। কিন্তু আমি প্রতিদিন তাঁদের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছি।” তিনি আরও জানান, “‘সেবাশ্রয়’ আমার কাছে অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। ৭৫ দিন ধরে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবকরা অকান্ত পরিশ্রম করেছেন। বহু দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তাঁরা। সেই হাসিই আমার সব থেকে বড় উপহার।” বৃহস্পতিবার, ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পের শেষ দিনে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে লেখেন, “শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে পর্যন্ত আমি ডায়মন্ড হারবারের সেবা করে যাব।”
নজিরবিহীন সাফল্য
‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে ১২ লক্ষেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। এই উদ্যোগ ডায়মন্ড হারবারের সীমানা ছাপিয়ে রাজ্যের অন্যান্য জেলার মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে। এই ক্যাম্পগুলির সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কোনও স্বীকৃতির আশায় এই কাজ করা হয়নি। তবে স্বীকৃতি এসেছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। গত ৭৫ দিনে ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে এই ক্যাম্পগুলি চালানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যও নতুন অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি এনে দিয়েছে।
দেশজুড়ে আলোচনা ও গণমাধ্যমের নজর
‘সেবাশ্রয়’ কেবল একটি স্থানীয় উদ্যোগ নয়, এটি এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয়। পরিসংখ্যান বলছে, এই ক্যাম্প নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মোট ১৬৮৭টি খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ৩৬৫টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রিন্ট, বৈদ্যুতিন এবং ডিজিটাল মাধ্যম মিলিয়ে এই বিপুল কভারেজ এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন খবরের কাগজের প্রথম পাতায় ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে ৫০টিরও বেশি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক রাজনৈতিক দলের মেগা কর্মসূচিও এতটা মিডিয়ার নজর কাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
মানবিকতার নতুন দিগন্ত
‘সেবাশ্রয়’ দেখিয়ে দিয়েছে, ইচ্ছে ও চেষ্টা থাকলে একজন সাংসদের নিজস্ব উদ্যোগে কীভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। এই ক্যাম্পে সাধারণ চিকিৎসা থেকে শুরু করে গুরুতর রোগীদের জন্য রেফারেল ব্যবস্থা—সবই ছিল। এই উদ্যোগ কেবল ডায়মন্ড হারবারের মানুষের জন্যই নয়, গোটা দেশের সামনে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রয়াসকে অনেকে ‘মানবিকতার নতুন দিগন্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
‘সেবাশ্রয়’ শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিষেকের কথায়, “এটি শেষ নয়, এক নতুন যাত্রার সূচনা।” ডায়মন্ড হারবারের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রতিজ্ঞা আগামী দিনে আরও বড় রূপ নিতে পারে বলে আশা করছেন অনেকে।