মার্কিন বায়ু সেনার নতুন ফাইটার ড্রোন, YFQ 42 আলফা ও YFQ-44 আলফা, চীনকে চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি

মার্কিন বায়ু সেনা আকাশে আধিপত্য ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে নতুন প্রজন্মের ফাইটার ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা করছে। গত বছর নেক্সট জেনারেশন এয়ার ডমিনেন্স (এনজিএডি) কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় ষষ্ঠ প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার বিমান তৈরির বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। তবে, মার্কিন বায়ু সেনা বিদ্যমান F-35 যুদ্ধবিমানকে সহায়তা করার জন্য কমপক্ষে 1,000টি ফাইটার ড্রোন অর্জনের পরিকল্পনা করছে। এই ড্রোনগুলি আকাশে যুদ্ধের সময় F-35 বিমানকে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গত এপ্রিলে মার্কিন বায়ু সেনা, মহাকাশ বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি ব্যবসায়িক উন্নয়ন ইভেন্টে ইউএস এয়ার ফোর্স জেনারেল ডেভিড অলউইন 100-150টি “বাডি” ড্রোনের প্রাথমিক ব্যাচের জন্য নির্বাচিত প্রোটোটাইপ ড্রোনের সরকারী সামরিক পদবি ঘোষণা করেন। আগে এই ড্রোনগুলি ‘লয়্যাল উইংম্যান’ নামে পরিচিত ছিল। জেনারেল অলউইন ইভেন্টে বলেন, “আমাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, আমাদের YFQ-42 আলফা এবং YFQ-44 আলফাতে একটি ফাইটার পদবী আছে। হয়তো এটি কেবল প্রতীকী, কিন্তু এটি বিশ্বকে বলছে যে আমরা বায়ু যুদ্ধের একটি নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”

এই ড্রোনগুলির মধ্যে YFQ-42A হল জেনারেল অ্যাটমিকস অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমের তৈরি প্রোটোটাইপ, যা মার্কিন বায়ু সেনার জন্য ফাইটার ড্রোন নির্মাণে অভিজ্ঞ। অন্যদিকে, সিলিকন ভ্যালি-ভিত্তিক কোম্পানি অ্যান্ডুরিলের ডিজাইন করা “ফিউরি” ড্রোনটি YFQ-44A উপাধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ড্রোনগুলির নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে তাদের ক্ষমতার রহস্য। “YFQ” উপাধিটি ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে এই ড্রোনগুলি প্রোটোটাইপ পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ব্যাপক উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

নামের শুরুতে “Y” উপাধিটি প্রোটোটাইপ নির্দেশ করে, যা শেষ পর্যন্ত অপারেশনাল মডেলে রূপান্তরিত হতে পারে। এটি “X” উপাধি সহ পরীক্ষামূলক বিমানগুলির থেকে আলাদা, যেমন নাসার সুপারসনিক X-59। এছাড়াও, “Q” অক্ষরটি চালকবিহীন বিমানকে নির্দেশ করে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ড্রোনগুলি বিশেষভাবে চীন বা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এই নতুন ড্রোনগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের MQ-1 প্রিডেটর এবং MQ-9 রিপার ড্রোন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। MQ-1 এবং MQ-9 ড্রোনগুলি মূলত গুপ্তচরবৃত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদী মিশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, যা ধীর গতিতে উড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা একটি অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তবে, এই ড্রোনগুলি চটপটে যোদ্ধা বিমানের সাথে লড়াই করার জন্য উপযুক্ত নয়। নতুন YFQ-42 আলফা এবং YFQ-44 আলফা ড্রোনগুলি এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠবে এবং আকাশে যুদ্ধের সময় F-35 বিমানকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ড্রোনগুলি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে চীন এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলির ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ক্ষমতার মুখে এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করবে।

মার্কিন বায়ু সেনার এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভবিষ্যতের যুদ্ধে ড্রোন এবং মানববিহীন প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে চাইছে। YFQ-42 আলফা এবং YFQ-44 আলফা ড্রোনগুলি এই লক্ষ্য পূরণের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।