দিলীপ ঘোষের মেজাজ হারানোর ঘটনা, মহিলাদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ালেন বিজেপি নেতা

বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ শুক্রবার (২১ মার্চ, ২০২৫) পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে একটি রাস্তা উদ্বোধন করতে গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের দাবি, তৃণমূলের প্ররোচনায় মহিলারা বিনা কারণে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।

কী ঘটেছিল?
খড়গপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়া এলাকায় একটি রাস্তা উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে কয়েকজন মহিলা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান। মহিলারা দিলীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তিনি সাংসদ থাকাকালীন এলাকায় একদিনের জন্যও আসেননি। এখন স্থানীয় কাউন্সিলর প্রদীপ সরকার রাস্তা তৈরি করানোর পর তিনি উদ্বোধন করতে এসেছেন।

মহিলারা দিলীপকে প্রশ্ন করেন, “দাদা, এত দিন কোথায় ছিলেন? সাংসদ থাকা অবস্থায় তো আপনাকে এক দিনের জন্যও দেখতে পাইনি। এখন আমাদের কাউন্সিলর রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার পর আপনি এসেছেন?”

দিলীপ ঘোষের জবাব
প্রথমে চুপ থাকলেও পরে দিলীপ ঘোষ মহিলাদের জবাব দেন। তিনি বলেন, “আমি টাকা দিয়েছি। কারও বাপের টাকা নয়! যাও গিয়ে প্রদীপ সরকারকে জিজ্ঞেস করবে।” এক মহিলা পাল্টা জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি বাপ তুললেন কেন?” উত্তরে দিলীপ বলেন, “এই চেঁচাবে না, গলা টিপে দেব। টাকা দিয়েছি…।” এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও বলেন, “শুধু বাপ নয়, চোদ্দো পুরুষ তুলব।”

পরিস্থিতি উত্তপ্ত
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি কর্মী ও দিলীপের নিরাপত্তারক্ষীরা বিক্ষোভ হটানোর চেষ্টা করেন। খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর দিলীপের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং মহিলারা রাস্তায় বসে পড়েন। অনেককে দিলীপের গাড়িতে চাপড় মারতেও দেখা যায়। শেষমেশ বিক্ষোভের মধ্যে দিলীপ ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় কাউন্সিলর প্রদীপ সরকার বলেন, “দিলীপ ঘোষ এখন আর কাউন্সিলর নন, তারপরেও কী করে তিনি রাস্তা উদ্বোধন করতে আসেন? নিচু এলাকা থাকায় পুরসভা থেকেও ওই রাস্তার কাজ করা হয়েছে। উনি ওখানে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে মহিলাদের বাবা তুলছেন! এটা ঠিক কথা নয়।”

শেষ কথা
দিলীপ ঘোষের এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের দাবি, তৃণমূলের প্ররোচনায় মহিলারা বিনা কারণে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

দিলীপ ঘোষের মেজাজ হারানোর ঘটনায় তোলপাড়, তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া।