রাম নবমীর পর বিজেপির ‘তারাপীঠ মহাশ্মশান অভিযান’, জেনেনিন কেন এমন ডাক দিলেন শুভেন্দু?

বিজেপি নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার তারাপীঠ মহাশ্মশানে অবৈধ নির্মাণ, সনাতনী বৈষ্ণব সমাজের অবমাননা এবং তারাপীঠ-রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (TRDA)-এর দুর্নীতির প্রতিবাদে রামপুরহাট এসডিও অফিস চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভ থেকে বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি আগামী ৬ এপ্রিল রামনবমীর পর গোটা রাজ্যের বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সনাতনীদের নিয়ে তারাপীঠ মহাশ্মশানে অভিযানের ডাক দিয়েছেন।
জানা গেছে, তারাপীঠের প্রধান রাস্তার দুই ধার এবং পাণ্ডাপাড়ার নোংরা জল মজুত করার জন্য তারাপীঠ শ্মশানে একটি রিজার্ভার নির্মাণ করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জল পরিস্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলা হবে। তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের দাবি, পরিবেশ আদালতের নির্দেশে এই কাজ চলছে। তবে বিজেপি এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই নির্মাণের ফলে শ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তারাপীঠ মহাশ্মশানে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সমাধিস্থল রয়েছে এবং সেই সমাধিস্থলেই নির্মাণ কাজ চলছে।
এই ঘটনায় বীরভূমের তারাপীঠ মহাশ্মশানে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিজেপির বিক্ষোভের পর রিজার্ভারের জন্য তৈরি গর্ত বুজিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন বিজেপি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, পুনরায় কাজ শুরু হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। সম্প্রতি আবার নির্মাণ কাজ শুরু হতেই বিজেপি বিক্ষোভে নেমেছে। গত ৬ মার্চ এই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার রামপুরহাটে অবস্থান বিক্ষোভ থেকে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “সমস্ত নদীর বালি তুলে নদীগুলো ধ্বংস করেছে। তারাপীঠ মহাশ্মশানের সংলগ্ন দ্বারকা নদীর পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টারকে জগন্নাথ মন্দির বলে মিথ্যা প্রচার করছে।
শুভেন্দু এদিন বৈষ্ণব সমাজের রক্ষার দাবি তুলে বলেন, “তারাপীঠে অবৈধ নির্মাণে বৈষ্ণব সমাজের অস্তিত্বে আঘাত লেগেছে। ৬ এপ্রিল রামনবমীতে গোটা রাজ্যের বৈষ্ণব সমাজকে নিয়ে তারাপীঠ মহাশ্মশানে কর্মসূচির ডাক দেব। প্রয়োজনে পার্টির পতাকা দূরে সরিয়ে রেখে সনাতনীদের নিয়ে এই অভিযান চালানো হবে।” তিনি রাজ্যজুড়ে সনাতনী সমাজের উপর নির্যাতন ও অত্যাচারের প্রতিবাদে এই আন্দোলনকে আরও বড় করার ইঙ্গিত দেন।
এই ঘোষণার পর তারাপীঠে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির এই পদক্ষেপকে তৃণমূল কীভাবে মোকাবিলা করে, তা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।