BigNews: ৩ বছরে ৩৮টি দেশে সফর মোদীর, বিদেশ সফরের খরচ কত? হিসাব দিল কেন্দ্র সরকার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফর নিয়ে রাজ্যসভায় উঠে এসেছে বিস্তারিত হিসাব। ২০২২ সালের মে মাস থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ৩৮টি দেশে সফর করেছেন, যার মোট খরচ প্রায় ২৫৮ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে গত তিন বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে কত খরচ হয়েছে, তা জানতে চেয়েছিলেন। হোটেলে থাকা, যাতায়াত, অনুষ্ঠান আয়োজন-সহ বিভিন্ন খরচের বিবরণ চেয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা। এর জবাবে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা লিখিতভাবে বিস্তারিত তথ্য পেশ করেন।
সবচেয়ে ব্যয়বহুল সফর
কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন মাসে আমেরিকা সফরে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে—২২ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬৮ হাজার ৫০৯ টাকা। এর আগে ওই বছরের মে মাসে জাপান সফরে খরচ হয়েছিল প্রায় ১৭ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মে মাসে নেপাল সফরে খরচ হয়েছিল ৮০ লক্ষ টাকা, যা তুলনায় অনেক কম।
২০২৪ সালের সফর
২০২৪ সালে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদী পোল্যান্ড, ইউক্রেন, রাশিয়া, ইটালি, ব্রাজিল এবং গিনি সফর করেছেন। এর মধ্যে ইটালি সফরে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা, রাশিয়া ও ব্রাজিলে সাড়ে ৫ কোটি টাকা এবং পোল্যান্ডে ১০ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে এই বিপুল খরচের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী দলগুলি সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে। মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, “দেশে যখন অর্থনৈতিক চাপে জনগণ কষ্ট পাচ্ছেন, তখন এই ধরনের খরচের বিবরণ জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট করা উচিত।” তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এই সফরগুলি ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য।
উল্লেখযোগ্য সফর
মোদীর বিদেশ সফরের মধ্যে আমেরিকা ও জাপান সফর ছিল গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ। আমেরিকা সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। জাপানে জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেন সফরও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদেশ সফরের এই খরচের তথ্য সংসদে উত্থাপিত হওয়ায় আগামী দিনে এটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এই সফরের ফলাফল ও গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা চললেও বিরোধীরা এটিকে অপব্যয় হিসেবে তুলে ধরতে পারে।