RSS-মঞ্চে মনমোহন-জাকির হোসেনকে শ্রদ্ধাঞ্জলি, উপস্থিত ছিলেন মোহন ভাগবতও

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সর্বভারতীয় প্রতিনিধি পরিষদের সভা শুরু হয়েছে এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলির মাধ্যমে। এই সভার প্রথম মুহূর্তেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, বিখ্যাত তবলা বাদক জাকির হোসেন, গায়ক শ্যাম বেনেগাল, বিবেক দেবরায়, দেবেন্দ্র প্রধান এবং কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সম্প্রতি এই বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়াত হয়েছেন, এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভাগবত।
এই সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, ইস্কনের মতো গোষ্ঠীর প্রধানরা সহ প্রায় ১,৪৫০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মণিপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা
আরএসএস-এর সহ-সাধারণ সম্পাদক সিআর মুকন্দা সভায় মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, “আমরা মণিপুরে কাজ করেছি। সেখানকার পরিস্থিতি মোটেই ভাল ছিল না। সরকার সেখানে উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু আরএসএসও শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে গেছে। তবে গত ২০ মাসে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে অনেক সময় লাগবে।”
ডিলিমিটেশন বিতর্কে স্পষ্ট বক্তব্য
সম্প্রতি ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সে বিষয়েও মুখ খুলেছেন সিআর মুকন্দা। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে জনঘনত্ব কমার কারণে সাংসদ সংখ্যা হ্রাসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “জনঘনত্ব কমলেও এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট অনুপাতে সাংসদের আসন স্থির করা হবে। এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে বর্তমান অনুপাতেই সম্প্রসারণ হবে। নিজেদের মধ্যে লড়াই দেশের জন্য ক্ষতিকর।”
মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব
ভাষা নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গে সিআর মুকন্দা বলেন, “আরএসএস-এর মতে মাতৃভাষাই সবার সেরা। আমরা কখনও তিন ভাষার জন্য আলাদা প্রস্তাব পাস করিনি। তবে কাজ এবং চাকরির জন্য মাতৃভাষা ছাড়াও অন্য ভাষা শেখা প্রয়োজন।”
এই সভা দেশের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে আরএসএস-এর অবস্থান ও কার্যক্রমকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।