বারুইপুরে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীর হামলা, অভিযোগ করলেন শুভেন্দু অধিকারী, ঘটনা কী ঘটেছিল?

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন, যখন তিনি দাবি করেছেন, বারুইপুরে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী তাঁকে আক্রমণ করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দিন তিনি যখন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে যান, তখন তৃণমূলের একদল দুষ্কৃতী তাঁকে আক্রমণ করে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, সময়মতো গাড়ির কাঁচ না নামালে তাঁর মাথায় বড় আঘাত লেগে মৃত্যু হতে পারত।
ঘটনা কী ঘটেছিল?
আজ সকালে বারুইপুরে শুভেন্দু অধিকারী যখন একটি গণবিক্ষোভের অংশ হিসেবে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে যান, তখন তাঁর গাড়িতে তৃণমূলের গুন্ডারা হামলা চালায়। গাড়ির কাঁচে ইট, পাথর ছোড়া হয় এবং গাড়ি লক্ষ্য করে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি গাড়ির কাঁচ দ্রুত নামিয়ে ফেলেন, যদি তিনি তা না করতেন, তবে তাঁর মাথায় বড় আঘাত হতে পারত।
শুভেন্দুর মন্তব্য:
এ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমার উপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। যদি সময়মতো গাড়ির কাঁচ না নামাতাম, তবে আজ হয়তো আমি এখানে থাকতাম না। তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী আমার ওপর এই হামলা চালিয়েছে শুধুমাত্র কারণ আমি সত্যি কথা বলি।”
তিনি আরও বলেন, “এবার ভাবছি, আগামীতে যদি আবার এমন পরিস্থিতি আসে, তাহলে আমি গাড়িতে হেলমেট রাখব। যেন কোনও দুর্ঘটনা হলে অন্তত কিছুটা সুরক্ষা থাকে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
এই হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব এ ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে এবং দাবি করেছে যে, রাজ্যে দলিত, নির্যাতিত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে তৃণমূল। বিজেপি নেতারা আরও বলেছেন, “এখন আর নীরব থাকা যায় না, তৃণমূলের এ ধরনের আক্রমণ বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
অপরদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার ঘটনায় কোনো মন্তব্য করেনি, তবে দলীয় কিছু নেতা জানান, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তারা এটিও দাবি করেন যে, এসব “রাজনৈতিক অপপ্রচার” ছাড়া আর কিছুই নয়।
শুভেন্দু অধিকারী-র বক্তব্যের প্রভাব:
এই হামলার ঘটনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি তৃণমূলের আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কোনওও ছাড় দেবেন না এবং আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাবেন। এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং সামনের দিনগুলিতে আরও নানা ঘটনা সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজ্যে শান্তি ফেরানোর দাবিতে বিরোধী দলগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্দোলন করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।