কোর্টের বাইরে বের হতেই ‘হুমকি’ কুন্তলকে, দাবি করা হলো ১৯ কোটি টাকার

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের উপর বিচার ভবনে হুমকির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ইডি-র বিশেষ আদালতে মামলার শুনানি চলাকালীন কুন্তল অভিযোগ করেন, দুজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে এজলাসের বাইরে ডেকে নিয়ে গিয়ে ১৯ কোটি টাকা দাবি করে হুমকি দিয়েছেন। এই ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কুন্তলের অভিযোগ

শুনানির শেষে কুন্তল বিচারক শুভেন্দু সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “দুজন আমাকে বাইরে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাপস মণ্ডলের ১৯ কোটি টাকা ফেরত দিতে বলেছে।” তিনি জানান, এই দাবির সঙ্গে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তাপস মণ্ডল, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হন এবং গত বছর অক্টোবরে জামিনে মুক্তি পান। কুন্তলের দাবি, ওই দুজনকে তিনি চেনেন না, তবে আদালতের সিসিটিভি ফুটেজে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব।

বিচারক কুন্তলের বক্তব্য শুনে তাঁকে মামলা চলাকালীন বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং আদালতের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেন। এই ঘটনা কুন্তলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরে ইডি ও সিবিআই-এর মামলা থেকে জামিন পান কুন্তল। আদালত তাঁকে পুরী যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছে।

শান্তনুর জামিন

এদিন বিচার ভবনের সিবিআই আদালতে একই মামলায় হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এক লক্ষ টাকার বন্ডে জামিন পান। জামিনের খবর শুনে আবেগপ্রবণ শান্তনু এজলাসে কেঁদে ফেলেন। তিনি ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। ২০২৩ সালে ইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং ইডি-র মামলায় জামিন পাওয়ার পর সিবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এবার সিবিআই মামলায় জামিন পেয়ে তিনি মুক্তি পেলেন।

পার্থর জামাইয়ের মামার সাক্ষ্য

ইডি-র আদালতে এদিন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্যের মামা কৃষ্ণচন্দ্র অধিকারী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ঘোষণার সময় কুন্তল হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে হাত তুলে তাঁর উপর হামলার অভিযোগ তুলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পটভূমি

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তল ও শান্তনু ছাড়াও একাধিক ব্যক্তির নাম জড়িয়েছে। কুন্তলকে ২০২৩ সালে ইডি গ্রেপ্তার করে, এবং পরে সিবিআইও তাঁকে হেফাজতে নেয়। দীর্ঘ তদন্তের পর গত নভেম্বরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এদিকে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা এখনও চলছে, এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য মামলায় নতুন মোড় এনেছে।

প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ

কুন্তলের উপর হুমকির ঘটনা আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এই ঘটনার তদন্ত কোন দিকে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, শান্তনুর জামিন এই মামলায় অভিযুক্তদের জন্য নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই মামলার পরবর্তী শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।