এ যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! আগুন নেভাতে গিয়ে বিচারপতির ঘর থেকে উদ্ধার কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা

এ যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোনোর মতো ঘটনা! দিল্লি হাইকোর্টের এক বিচারপতির সরকারি বাসভবনে আগুন নেভানোর সময় উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে দেশের বিচারব্যবস্থা। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব খান্না কলেজিয়ামের বৈঠক ডাকেন। প্রধান বিচারপতি ঘোষণা করেন, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভর্মাকে অবিলম্বে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করা হবে।
জানা গেছে, ঘটনার সময় প্রধান বিচারপতি দিল্লিতে ছিলেন না। আগুন লাগার খবর দেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ফায়ার পকেট চেক করতে গিয়েই দমকলকর্মীরা অবাক হয়ে যান—কয়েকটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় বিপুল অঘোষিত নগদ টাকা। যদিও ঠিক কত টাকা পাওয়া গেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিচারপতির সরকারি বাসভবন থেকে এত টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না সঙ্গে সঙ্গে কলেজিয়ামের জরুরি বৈঠক ডাকেন এবং বিচারপতি যশবন্ত ভর্মাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টেই কর্মরত ছিলেন।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (অভিশংসন) প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। কলেজিয়ামের অনেক বিচারপতির মতে, শুধু বদলির সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়, বরং এমন গুরুতর ঘটনায় বিচারপতি ভর্মার উচিত অবিলম্বে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তবে সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
collegium must immediately disclose the amount of money recovered to stop speculation
Unaccounted cash found after fire at Delhi HC judge’s official residence sparks row, Justice Yashwant Varma, Delhi High Court, Allahabad High Court, https://t.co/HFiwELtRZR
— Indira Jaising (@IJaising) March 21, 2025
এদিকে, বিচারপতির বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রকাশের দাবিতে সরব হয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি পোস্ট করে লেখেন, “কলেজিয়ামের উচিত অবিলম্বে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা, যাতে জল্পনা বন্ধ হয়।”
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে বলা হয়। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তবে সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির নেতৃত্বে এবং দেশের দুটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিই তদন্ত করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।