“এর ফলে সমাজে কুপ্রভাব পড়ছে”-অবৈধ জুয়ার অ্যাপের প্রচারে অভিযুক্ত দক্ষিণী ২৫ তারকা

জুয়ার অ্যাপের প্রচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্র শিল্পের ২৫ জন তারকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে তেলঙ্গানা পুলিশ। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন প্রকাশ রাজ, বিজয় দেবরাকোন্ডা, রানা দগ্গুবতী, প্রণীতা, নিধি আগরওয়াল, অনন্যা নাগাল্লা, সিরি হনুমান্থ, শ্রীমুখী, বর্ষিণী সৌন্দরাজন, বাসন্তী কৃষ্ণন, শোভা শেঠি, অমৃতা চৌধুরী, নয়নী পাভানি, নেহা পাঠান, পান্ডু, পদ্মাবতী, প্রীতি, ইমরান খান, সানা, সান্যাভ, শ্যামলা, সুস্বাদু তেজা এবং বান্দারু শেশায়ানি সুপ্রীতা।
বৃহস্পতিবার সকালে সাইবেরাবাদ থানার পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩১৮ (প্রতারণা), ১১২ (ক্ষুদ্র সংগঠিত অপরাধ) এবং ৪৯ (কুকর্মে প্ররোচিত করা) ধারার আওতায় এই অভিযোগ দায়ের করে। এছাড়াও তেলঙ্গানার গেমিং আইন, ১৯৭৪ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করা হয়েছে ফণীন্দ্র শর্মা নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে। ফণীন্দ্র স্থানীয় মিয়াঁপুরের বাসিন্দা। তার অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, একাধিক চিত্র তারকা এবং নেটপ্রভাবী জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় জড়িত ছিলেন। ফণীন্দ্রের মতে, এই ধরনের অ্যাপের প্রচারে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেলঙ্গানা প্রশাসন জুয়ার অ্যাপ এবং অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন এবং হাজার হাজার টাকা হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের তরফে একের পর এক অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই প্রথম কোনো চলচ্চিত্র তারকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলো।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তারকাদের বেশিরভাগই সামাজিক মাধ্যম বা বিজ্ঞাপনে জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এই ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে তাদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ এখন অভিযুক্তদের তলব করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় দক্ষিণী চলচ্চিত্র শিল্পে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তারকাদের এই ধরনের প্রচারণায় জড়িত হওয়া কতটা নৈতিক। অন্যদিকে, অভিযুক্ত তারকাদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেলঙ্গানা পুলিশের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষা এবং সমাজে নৈতিকতার মান বজায় রাখতে এই ধরনের ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই মামলার পরিণতি কী হবে এবং অভিযুক্ত তারকাদের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।