RG KAR প্রতিবাদী চিকিৎসক ‘সুবর্ণ গোস্বামীর’ বদলি, অভয়ার বাবার বিস্ফোরক মন্তব্য, বদলি নিয়ে

আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদী আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুবর্ণ গোস্বামীকে বদলি করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (২) পদ থেকে তাঁকে দার্জিলিংয়ের টিবি হাসপাতালের সুপারের পদে বদলি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত চিকিৎসকের পরিবার এবং চিকিৎসক সমাজ। নিহত চিকিৎসকের বাবা বলেন, “সরকার আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে।”
২১ বছরে ১৪ বার বদলি
২১ বছরের চাকরি জীবনে এটিই সুবর্ণ গোস্বামীর ১৪তম বদলি। তৃণমূল সরকারের আমলে এটিই তাঁর অষ্টম বদলি। পূর্ব বর্ধমানের উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের পদ থেকে দার্জিলিংয়ের টিবি হাসপাতালের সুপারের পদে বদলি করা হয়েছে তাঁকে। এই বদলিকে ‘ডিমোশন’ বলে দাবি করেছেন সুবর্ণ গোস্বামী। তিনি বলেন, “আমাকে এমন একটি হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে, যেখানে রোগী প্রায় নেই বললেই চলে। এটা আমার পদাবনতি।”
নিহত চিকিৎসকের পরিবারের ক্ষোভ
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর থেকে সুবর্ণ গোস্বামী আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন। তিনি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সরকার, স্বাস্থ্য প্রশাসন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। নিহত চিকিৎসকের বাবা বলেন, “সুবর্ণ গোস্বামী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ডিসি নর্থের দেওয়া টাকার প্রস্তাব সবাইকে জানিয়েছিলেন। সরকার আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে। এই বদলি করে তারা আন্দোলন দমাতে চাইছে। কিন্তু যত এসব করবে, তত আন্দোলন বাড়বে।”
চিকিৎসক সমাজের প্রতিবাদ
সুবর্ণ গোস্বামীর বদলির প্রতিবাদে জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স স্বাস্থ্য ভবনে অভিযান চালিয়েছে এবং স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ এই বদলিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে স্বাস্থ্য ভবনের সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি একটি রুটিন ট্রান্সফার এবং প্রশাসনিক পদেই তাঁকে বদলি করা হয়েছে।
সুবর্ণ গোস্বামীর মনোবল অটুট
বদলির পরেও সুবর্ণ গোস্বামীর মনোবল অটুট। তিনি বলেন, “কেউ যদি মনে করেন, এই বদলি করে আন্দোলন দুর্বল হবে, তাহলে তারা ভুল ভাবছেন। এই আন্দোলন আরও জোরালো হবে, আরও তীব্র হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলবে।”
উপসংহার
সুবর্ণ গোস্বামীর বদলি নিয়ে চিকিৎসক সমাজ এবং নিহত চিকিৎসকের পরিবারের ক্ষোভ প্রকাশ সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আরজি কর কাণ্ডের বিচারের দাবিতে চলা আন্দোলন আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হলে আগামী দিনে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নীতিগুলো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।