স্বাগত জানানো হবে ‘সিঙ্গারা পার্টি’তে! সুনীতা পৃথিবীতেই ফিরতেই আনন্দে আত্মহারা তার পৈতৃক গ্রাম

একটি ঘরের মেয়ে পা রেখেছিলেন মহাবিশ্বের অতল গহনে। পরিকল্পনা ছিল মাত্র ৮ দিনের। কিন্তু সেই স্বল্প সময়ের যাত্রা দীর্ঘ হয়ে পড়ে, পেরিয়ে যায় ৯টি মাস। পরিবারে, গ্রামে, সবার মনে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। অবশেষে, সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। তাঁর পিতৃকুলের শিকড় গাঁথা রয়েছে ভারতের মাটিতে।

এনডিটিভির একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, সুনীতার ফিরে আসার খবরে তাঁর পৈতৃক গ্রাম গুজরাটের ঝুলাসানে আনন্দের জোয়ার। গ্রামের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন, আতশবাজি ফাটিয়ে, উৎসবে মেতে উঠেছেন। সুনীতার সঙ্গে তাঁদের গভীর আত্মিক যোগ, যিনি মহাকাশে গিয়েও ভারতীয়ত্বের স্বাদ ভোলেননি।

সুনীতার ভ্রাতৃবধূ ফাল্গুনী পাণ্ডিয়া এনডিটিভিকে বলেছেন, “ঠিক কবে আসবে, সঠিক তারিখটা বলতে পারছি না। তবে এটা নিশ্চিত, খুব শিগগিরই সুনীতা ভারতে পা রাখবেন। এই বছরের মধ্যেই।” আর গ্রামে ফিরলেই হবে এক বিশেষ আয়োজন—সামোসা পার্টি! কিন্তু সামোসা কেন? কারণ, সুনীতার হৃদয়ে রয়েছে ভারতীয়ত্বের গভীর ছাপ, আর তিনি সামোসার একনিষ্ঠ ভক্ত। মহাকাশ স্টেশনেও তাঁর খাদ্য তালিকায় ছিল এই প্রিয় সিঙ্গারা। ফাল্গুনী জানান, “সুনীতা এলে সামোসা দিয়েই তাঁকে স্বাগত জানাব।”

তবে ভারতে ফেরার আগে পরিবারেরও পরিকল্পনা রয়েছে। হয়তো তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন, বা অন্য কোথাও। একসঙ্গে ছুটি কাটানোর স্বপ্ন দেখছেন সবাই। ফাল্গুনী বলেন, “আমরা সবাই মিলে সময় কাটাতে চাই। ফ্লোরিডার সৈকতে বেলুনে চড়ে সুনীতাদের নামার দৃশ্য আমাদের মন ভরিয়ে দিয়েছে। যেন এক স্বপ্নের মতো।”

সুনীতা কি আবার মহাকাশে যাবেন? নাকি মঙ্গল গ্রহে পা রাখবেন? ফাল্গুনীর জবাব, “এটা ওর নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। সুনীতা আমাদের সবার জন্য একজন প্রেরণা।” তিনি আরও জানান, সুনীতার ৫৯তম জন্মদিনে—১৯ সেপ্টেম্বর—মহাকাশে থাকাকালীন তাঁর জন্য পাঠানো হয়েছিল কাজু কাটলি। এছাড়া, ফাল্গুনী উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভে গিয়েছিলেন, আর সেই ছবি দেখতে চেয়েছিলেন সুনীতা।

সুনীতার ফিরে আসার যাত্রা শুরু হয় মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে। বুধবার আটলান্টিক মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেন তিনি ও তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোর। নাসা গোটা ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার করে। সমুদ্রে নামার পর মার্কিন নৌসেনার বোট তাঁদের উদ্ধার করে। হাইড্রোলিক পদ্ধতিতে জাহাজে তোলা হয়, এবং রাত ৮টা ২২ মিনিটে ড্রাগন ক্যাপসুল থেকে হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন সুনীতা। তারপর তাঁরা রওনা দেন হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারের উদ্দেশে, যেখানে আগামী কয়েকদিন থাকবেন এই মহাকাশচারীরা।

এক সাধারণ গ্রামের মেয়ে থেকে মহাবিশ্বের পথিক, সুনীতা উইলিয়ামস আজও সবার কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।