বাউল গানের উৎসবের আড়ালে চলছে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর! বীরনগর লালন মেলায় চাঞ্চল্য

তাহেরপুর থানার বীরনগর এলাকায় লালন মেলার নামে বাউল গান ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আড়ালে প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলার সময়টাকে কাজে লাগিয়ে জুয়ারিরা দোকানিদের মতোই সাজিয়ে বসেছেন তাদের পসরা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে রানাঘাট জেলা পুলিশ জুয়া বন্ধে অভিযান চালালেও তা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে জুয়ার কারবারিদের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং মেলার সময়টাকে তারা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসাচ্ছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হলেও দুষ্কৃতীদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।

এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “মেলার নামে জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। পুলিশ সব দেখেও কিছু করছে না। আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারছি না, কারণ এর পিছনে শক্তিশালী লোকজন জড়িত।”

অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের দাবি, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। মেলার সময় জুয়ার আসর বসানো এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, জুয়ার আসরে শুধু স্থানীয়রাই নয়, আশেপাশের এলাকা থেকেও প্রচুর মানুষ আসেন। এতে সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জুয়ার প্রতি আসক্তি বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা চান, লালন মেলার মতো একটি সাংস্কৃতিক উৎসব যেন জুয়ার আখড়ায় পরিণত না হয়। পাশাপাশি, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে তাহেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন, কবে এই বেআইনি জুয়ার কারবার বন্ধ হবে এবং লালন মেলার প্রকৃত সাংস্কৃতিক চেতনা ফিরে পাওয়া যাবে।